Site icon Hindustan News Point

Fatty Liver: মানসিক চাপ কি নীরবে ক্ষতি করছে আপনার লিভারকে?

Fatty Liver

ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে AI


ডঃ ব্রততী সিংহ রায়

ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) শব্দটির সঙ্গে আমরা এখন সকলেই পরিচিত। কিন্তু ফ্যাটি লিভার আসলে কী সেটা অনেক সময় আমাদের জানা থাকে না। ফ্যাটি লিভার হলো শরীরের এমন একটি অবস্থা, যখন লিভারে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চর্বির পরিমাণ জমতে শুরু করে। ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ইত্যাদি। কিন্তু এখন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ হয়ে উঠেছে ফ্যাটি লিভার রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গবেষণা থেকে এটাও দেখা যায় যে, এই সমস্যা এখন সাংঘাতিক পরিমাণে বাড়ছে, বিশেষত মধ্যবয়স্ক মানুষদের মধ্যে।

মানসিক চাপ বলতে আমরা কী বুঝি?

আজকালকার ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেটাই যখন অতিরিক্ততে পরিণত হয়, তখন সেটা “ক্রনিক স্ট্রেস” হিসেবে পরিচিত হয়। মানসিক চাপ এমন একটি অবস্থা, যখন আমরা মানসিক এবং শারীরিক দুই রকম চাপের ফলে আমাদের স্বাভাবিক শান্ত জীবনযাপন করতে ব্যর্থ হয়ে থাকি। এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ শুধু আমাদের মনেই নয়, শরীরের ভেতরেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপ কীভাবে লিভারের ওপর প্রভাব ফেলছে?

পেট-কে বলা হয় আমাদের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। পেট থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হজম প্রক্রিয়া এবং মানসিক চাপ-দুটির সঙ্গেই জড়িত। মানসিক চাপ সরাসরি লিভারের কোনও রোগ সৃষ্টি না করলেও, এটি আগে থেকে থাকা অনেক সমস্যাকে আরও খারাপ করে দিতে পারে। মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই দুটি হরমোন শরীরের মেটাবোলিজম কমিয়ে দেয়, যার ফলে শরীরে, বিশেষ করে লিভারে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে পরবর্তীতে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Fatty Liver হলে বুঝবেন কীভাবে?

Fatty Liver শুরুতেই তেমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেয় না। তবে ধীরে ধীরে এর কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন- সবসময় ক্লান্তভাব থাকা, শরীরে দুর্বলতা অনুভব করা, খিদে কমে যাওয়া, অনেক সময় পেটের মধ্যে ব্যথা দেখা দেওয়া, হজমের সমস্যা, বা ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
যখন এটি গুরুতর অবস্থায় পরিণত হয়, তখন লিভার বড় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এর সাথে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যায়।

ফ্যাটি লিভার কত প্রকার ও তার গ্রেড

Fatty Liver সাধারণত দুই ধরনের হয়, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, যা অ্যালকোহল ছাড়াই হয় এবং অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, যা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে হয়।

আমাদের জেনে রাখা দরকার, এই রোগটি চারটি গ্রেডে বিভক্ত-

  1. প্রথম গ্রেড চর্বি জমার পরিমাণ অল্প এবং সাধারণত বেশি গুরুতর নয়।
  2. দ্বিতীয় গ্রেড চর্বি জমার পরিমাণ মাঝারি এবং কিছু শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
  3. তৃতীয় গ্রেড এটি সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা, যেখানে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
  4. চতুর্থ গ্রেড এটিকে লিভারের সিরোসিস (cirrhosis) বলা হয়। এই পর্যায়ে লিভার তার কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে।
Fatty Liver থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন?

মানসিক চাপ ও ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায়

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সেই কারণে সবচেয়ে জরুরি হলো আগে নিজেদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে সেটা অন্য কিছুর ওপর প্রভাব না ফেলতে পারে। নিচে কিছু উপায় দেওয়া হলো –

Fatty Liver শুধু খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা নয়, এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সেই কারণে শরীরকে সুস্থ রাখার সঙ্গে নিজের মনকে সুস্থ রাখারও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিদিনের জীবনযাপন ঠিক করে নিতে পারলেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আপনার সুস্থতা ও সচেতনতাই আমাদের কাম্য। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে সচেতন হতে সাহায্য করুন।


লেখক পরিচিত

ডঃ ব্রততী সিংহ রায় একজন পেশাদার কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এবং সাইকোথেরাপিস্ট। তবে তাঁর কাজের ধরনকে আলাদা করে তোলে তাঁর গভীর মানবিকতা ও হিউম্যানিস্টিক অ্যাপ্রোচ। তিনি শুধুমাত্র সমস্যার সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নন; বরং মানুষের ভেতর থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পথ তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তিনি একটি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ অনুসরণ করেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের থেরাপির পাশাপাশি মানুষের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে স্পিরিচুয়াল দিককেও গুরুত্ব দেন। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে তিনি মানুষের মানসিক কষ্টকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে মানুষের পাশে থাকার, তাদের ভালো রাখার এবং তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক আন্তরিক ইচ্ছা।

এই বিশ্বাস এবং শিক্ষা থেকেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও সমৃদ্ধ করে তুলছেন—শুধু একজন পেশাদার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও—যাতে তিনি অন্যদের জীবনে সত্যিকারের সুস্থতা ও শান্তি নিয়ে আসতে পারেন।



Exit mobile version