ভোজন রসিক আমিষ আহার গ্রহণকারীদের পাতে চিকেন বা মটনের যেকোনও পদ তো থাকেই। তবে অনেকেই আবার মাংসের পাশাপশি খেতে ভালোবাসেন চিকেন বা মটন লিভারও বা মেটে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পদগুলি লোভনীয় হলেও চিকেন আর মটন দুটির মধ্যে কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী? আর কাদের এগুলো খাওয়া উচিত নয়?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’ধরনের লিভারই অত্যন্ত পুষ্টিকর। তবে শরীরের প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই এগুলি খাওয়া উচিত। (Mutton or Chicken Liver)
চিকেন লিভারের উপকারিতা
চিকেন লিভারে প্রচুর আয়রন, সেলেনিয়াম, ভিটামিন A, ভিটামিন B12, ফলেট ও উচ্চমানের প্রোটিন থাকে।
এতে থাকা সেলেনিয়াম শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভিটামিন A চোখের দৃষ্টিশক্তি ও চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
ভিটামিন B12 মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।সঠিকভাবে রান্না করা চিকেন লিভার নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতেও সাহায্য মিলতে পারে।
মটন লিভারের উপকারিতা
অনেকেই চিকেনের তুলনায় মটন লিভার বেশি পছন্দ করেন। মটনে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই এটি আগে ভালোভাবে সেদ্ধ করে তারপর রান্না করেন।
মটন লিভারে রয়েছে ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন B12, জিঙ্ক ও কপার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
এই পুষ্টিগুলি শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
যাঁদের শরীরে রক্তের ঘাটতির কারণে অ্যানিমিয়া দেখা দেয়, তাঁদের জন্য মটন লিভার উপকারী খাবার হতে পারে।
এতে থাকা ভিটামিন B12 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। (Mutton or Chicken Liver)
কারা চিকেন বা মটন লিভার খাবেন না?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের লিভার এড়িয়ে চলাই ভালো।
যাঁদের কিডনিতে পাথর রয়েছে।
যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে।
হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
গর্ভবতী মহিলারা।
এই ধরনের শারীরিক সমস্যা বা অবস্থা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকেন বা মটন লিভার খাওয়া উচিত নয়।
দীর্ঘদিন ধূমপান করেও ‘কিছু হয়নি’ ভেবে নিশ্চিন্ত? সাবধান, নীরবেই বাসা বাঁধতে পারে মারণ রোগ
হেলথ টিপস
চিকেন ও মটন—দুই ধরনের লিভারই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে কোনও খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সবসময় পরিমিত পরিমাণে, ভালোভাবে রান্না করে এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। দীর্ঘদিনের কোনও অসুস্থতা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে যেকোনও ধরনের লিভার খাদ্যতালিকায় রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

