(Argentina vs Egypt) একটা সময় মনে হচ্ছিল, স্বপ্নটা বুঝি এখানেই শেষ। গ্যালারিতে স্তব্ধতা, মাঠে হতাশা, আর স্কোরবোর্ডে ০-২। কিন্তু যতক্ষণ মাঠে লিওনেল মেসি, ততক্ষণ গল্প শেষ হয় না। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা কামব্যাক—যেখানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে ৩-২ গোলে মিশরকে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্তিনা।
El número 🔟#CopaMundialFIFA pic.twitter.com/55dNXwT3oS
— Copa Mundial FIFA 🏆 (@fifaworldcup_es) July 7, 2026
(Argentina vs Egypt) ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্তিনা বলের দখল রাখলেও প্রথম বড় ধাক্কা আসে ১৫ মিনিটে। ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের দেওয়া কর্নার থেকে মারওয়ান আটিয়ার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ক্লিয়ারেন্স ব্যর্থ হওয়ায় সুযোগ লুফে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে হতবাক করে মিশরকে ১-০ এগিয়ে দেন তিনি।
Yasser Ibrahim breaks the deadlock! 👊🇪🇬#FIFAWorldCup pic.twitter.com/h2uf3NiJam
— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) July 7, 2026
গোল খাওয়ার পর আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্তিনা। ১৯ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু ২১ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট-কিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিসের পুনরাবৃত্তি ঘটল মেসির ক্ষেত্রে।
এরপর একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্তিনা। ২৮ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড আবারও ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। ২৯ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট ব্লক হয়। ৩২ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক পোস্টে লাগে, আরেকটি শট শোবেইর বাঁচান। ৩৮ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার প্রচেষ্টা বাইরে যায়, ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের শটও রুখে দেন মিশরের গোলকিপার। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে তাগলিয়াফিকোর হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়, ৪৩ মিনিটে আলভারেসের আরেকটি সুযোগও নষ্ট হয়। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলশূন্যই থাকে আর্জেন্তিনা, আর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে আত্মবিশ্বাসী মিশর।
Mostafa Ziko doubles Egypt's lead! 💪#FIFAWorldCup pic.twitter.com/avvFl3oxyr
— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) July 7, 2026
প্রথমার্ধে স্কালোনির ছেলেরা বারবার মিশরের ওপর আক্রমণ হানালেও সেই অর্থে ফলপ্রসূ হয়নি। আর্জেন্তিনার রক্ষণও থিতিয়ে পড়েছে। তাই দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্তিনা চাইবে সুযোগ নষ্ট না করতে। মেসি ম্যাজিক দেখার আশায় আর্জেন্তিনার সমর্থকরা মুখিয়ে ছিল। মরিয়া ভাবে প্রচেষ্টা করবে আর্জেন্তিনা। অন্যদিকে সালাহরা চাইবে যেনতেন প্রকারে ম্যাচে লিড ধরে রাখতে।
(Argentina vs Egypt) দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় স্কালোনির দল। ৪৭ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের দূরপাল্লার শট, ৫৩ ও ৫৮ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দুটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ব্লক হয়। ৫৮ মিনিটে মোস্তাফা জিকোর গোল VAR- এ বাতিল হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর্জেন্তিনা। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ মিনিটে হাইসেম হাসানের পাস থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে জিকো এবার আর ভুল করেননি। নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি আর্জেন্তিনা। ৭০ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের শট বাইরে যায়। ৭৪, ৭৬, ৮২ ও ৮৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেন। তবুও চাপ কমায়নি আর্জেন্তিনা।
অবশেষে ৭৯ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সূচনা। লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এরপর মিশর রক্ষণে আরও চাপে পড়ে। (Argentina vs Egypt) ৮৩ মিনিটে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে শোবেইরকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান স্বয়ং লিওনেল মেসি। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের রং।
ROMERO GETS ONE BACK FOR ARGENTINA WITH A FANTASTIC HEADER 🎯 pic.twitter.com/5XPCM99LWe
— The Sporting News (@sportingnews) July 7, 2026
যখন ম্যাচ ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই আসে শেষ নাটক। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বলে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেসিরা। এরপর সময় নষ্টের অভিযোগে শোবেইর, হামদি ফাথি ও মারওয়ান আটিয়া একের পর এক হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মিশর।
🏆 #FIFAWorldCup Enzo Fernández: "Venía anhelando el gol hace tres años. Tenemos un grupo fenomenal, que nunca se da por vencido". pic.twitter.com/qOatSGTy1l
— 🇦🇷 Selección Argentina ⭐⭐⭐ (@Argentina) July 7, 2026
(Argentina vs Egypt) স্কোরলাইন হয়তো আর্জেন্তিনার জয়ের গল্প বলবে, কিন্তু মিশরের লড়াইও কিন্তু সমান প্রশংসার দাবিদার। ইয়াসের ইব্রাহিমের নেতৃত্বে রক্ষণ, শোবেইরের একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ, আর সংগঠিত পাল্টা আক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে রেখেছিল। তবুও শেষ হাসি হাসল মেসির আর্জেন্তিনা। পেনাল্টি মিসের হতাশাকে গোল ও অ্যাসিস্টে ভুলিয়ে দিয়ে অধিনায়ক দেখালেন কেন তাঁকে এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা বলা হয়। ০-২ থেকে ৩-২—এই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নও জীবন্ত রাখল আলবিসেলেস্তেরা।
স্পেনের কাছে হারেই স্বপ্নভঙ্গ, বিদায়ে আবেগঘন বার্তা CR7-এর

