দীর্ঘ জল্পনা, বৈঠক ও আল্টিমেটামের পর শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) (Bangladesh T20 World Cup)। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর বিসিবি জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। ফলে কার্যত বিশ্বকাপ বয়কটের পথেই হাঁটল টাইগার শিবির।
বিসিবির এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে IPL থেকে বাদ দেওয়া এবং তার পর ভারত সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট নিরাপত্তা আশ্বাস না পাওয়াকে বড় ইস্যু হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট বলেন, “ভারত যদি একজন মুস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে গোটা বাংলাদেশ দলকে কীভাবে সুরক্ষা দেবে? ভারত সরকার আমাদের কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্বস্ত করেনি যে পুরো দল নিরাপদ থাকবে।”
এর আগে বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ভেন্যু বদল না হলে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবও দেয় বাংলাদেশ, সেটিও খারিজ করে আইসিসি। শেষ পর্যন্ত বুধবার আইসিসি ডেডলাইন বেঁধে দেয়— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশের দাবির পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র দু’টি— যার একটি পাকিস্তানের। বাকি ১৪টি দেশ বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেয়। এরপরই বিসিবিকে জানানো হয়, হয় ভারতে এসে খেলতে হবে, নতুবা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
২২ জানুয়ারি ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটার ও সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী। যদি আমাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হয়, আমরা অবশ্যই যাব। কিন্তু ভারতের মাটিতে নয়। ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না।”
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। আইসিসি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ভেন্যু বদল সম্ভব নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জ়িল্যান্ডের মতো দল ভারতে খেলে গেছে, WPL চলছে— ফলে নিরাপত্তার যুক্তি গ্রহণ করেনি বিশ্ব সংস্থা।
সব মিলিয়ে, সূচি, ভেন্যু ও দল ঘোষণার পর এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তান ছাড়া আর কোনও দেশ বাংলাদেশের পাশে না দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল টাইগারদের জন্য।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হল বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

