চার গোলের দুরন্ত জয়ে Santosh Trophy অভিযান শুরু করল বাংলা। বুধবার অসমের মাটিতে প্রথম ম্যাচেই নাগাল্যান্ডকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল— ট্রফি ধরে রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
এ বার সন্তোষ ট্রফি হচ্ছে অসমে, আর বাংলার শিবির রয়েছে ডিব্রুগড় জেলার মানকাটায়। সেখান থেকে ম্যাচ খেলতে যেতে হয়েছে লখিমপুর জেলার ঢেকুয়াখানায়, প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ যাত্রা, অচেনা মাঠ— সব মিলিয়ে ম্যাচের আগে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল কোচ সঞ্জয় সেনের। তবে সেই সব প্রতিকূলতাকে পাত্তা না দিয়েই মাঠে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বঙ্গ ব্রিগেড।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই অধিনায়ক রবি হাঁসদার গোল যেন আগাম সংকেত দিয়ে দেয় কী হতে চলেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া রবি এ বারও যে ভরসার নাম, তা প্রথম মিনিটেই প্রমাণ করেন। এই গোলের ধাক্কায় খানিকটা এলোমেলো হয়ে পড়ে নাগাল্যান্ড। সুযোগ বুঝে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে বাংলা।
৩৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরন্ত হেডে ব্যবধান বাড়ে ২-০। মাঝখানে নাগাল্যান্ড একটি সুযোগ পেলেও বাংলার গোলরক্ষকের অনবদ্য সেভে বিপদ কাটে। বিরতিতে দুই গোলে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে সঞ্জয় সেনের ছেলেরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে বাংলা। ৪৮ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের গোলে স্কোরলাইন হয় ৩-০। ম্যাচের শেষের দিকে আকিব নবাব চতুর্থ গোলটি করে নাগাল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন।
দীর্ঘ প্রস্তুতি শিবির, শক্তিশালী প্রস্তুতি ম্যাচ এবং পরিকল্পিত হোমওয়ার্ক— সবকিছুরই প্রতিফলন দেখা গেল প্রথম ম্যাচে। যদিও বড় জয়ের পরেও সন্তুষ্ট নন কোচ সঞ্জয় সেন। তাঁর মতে, বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট হয়েছে, যেগুলি দ্রুত শুধরে নিতে হবে। কারণ পরের রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
চার গোলের জয়ে শুরু হলেও, ধাপে ধাপে এগোনোর রাস্তাই বেছে নিয়েছে বাংলা। ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে এটাই শুধু প্রথম সাফল্য।

