টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (Bishnoi Gang) গড়াপেটার ছায়া। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি’র দুর্নীতি দমন শাখা। সন্দেহের চোখে কানাডা-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ। এর নেপথ্যে কি কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং? ‘দ্য ফিফথ এস্টেটে’র তদন্তমূলক তথ্যচিত্রে দাবি করা হচ্ছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির প্রভাবে কানাডার ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হয়। তদন্তের রিপোর্ট ও ‘হুইসেলব্লোয়ার’দের বয়ান অনুযায়ী কানাডা ক্রিকেট বোর্ড ও প্লেয়ারদের উপর বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করেছে এই কুখ্যাত গ্যাং। তথ্যচিত্র অনুসারে, কানাডার সারের একটি রেস্তোরাঁয় নিয়মিত মিটিং করতেন গ্যাংয়ের সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত হতেন কানাডার ক্রিকেটাররাও। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা, প্লেয়ার ও পরিবারদের হুমকি দেওয়ার যাবতীয় পরিকল্পনা এখান থেকেই করা হতো।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার একটি ওভার আতসকাচের তলায়। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এক বোর্ড মেম্বার তাঁকে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্লেয়ারকে দলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পঞ্চম ওভারের শুরুতে তিনি নো বল করেন, তারপর ওয়াইড বল করেন। ওই ওভারে ১৫ রান দেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। এছাড়া কানাডার প্রাক্তন কোচ কুররাম চৌহানের ফাঁস হওয়া একটি ফোন বার্তা নিয়েও চাপানউতোর চলছে। তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যাকাণ্ড এবং সলমন খানের বাড়িতে গুলি চালানোর জন্য দায়ী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংই এই ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির মূল হোতা। বস্তুত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কানাডিয়ান দলের অধিনায়ক হিসেবে দিলপ্রীত বাজওয়ার উত্থানের পিছনেও তাদের বড় ভূমিকা ছিল। এমনকি তারা দলের এক খেলোয়াড়কে হুমকিও দিয়েছিল, যদি সে বাজওয়ার অধিনায়ক নিয়োগকে সমর্থন না করে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে বিষ্ণোই গ্যাং নির্দিষ্ট খেলোয়াড় এবং প্রশাসকদের ক্ষমতার পদে বসিয়েছিল বিষ্ণোই। বস্তুত, খেলোয়াড় এবং কর্মীদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হতো।
উল্লেখ্য, তোলাবাজি, খুন, অস্ত্র-মাদক পাচারের মতো একাধিক সমাজবিরোধী কাজে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয়তা ভারতের মাথাব্যথার কারণ দীর্ঘদিন ধরেই। মূলত কানাডাকে (Bishnoi Gang) ঘাঁটি করে নিজেদের কার্যকলাপ চালায় এই গোষ্ঠীর মূল পান্ডা বলে পরিচিত লরেন্স বিষ্ণোই। সবরমতী জেলে বন্দি থাকলেও সলমন খান-সহ বলিউডের একাধিক তারকাকে হুমকি, সিধু মুসেওয়ালা বা বাবা সিদ্দিকে খুনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কুখ্যাত বিষ্ণোই গ্যাংকে সন্ত্রাসবাদীর তকমা দিয়েছে কানাডা সরকার।

