Site icon Hindustan News Point

নেইমারহীন ব্রাজিলের নতুন বার্তা! ভিনিসিয়াসের আলোয় উজ্জ্বল সেলেসাও, হাইতিকে ৩-০ গোলে ওড়ালো সাম্বার দেশ

Brazil vs Haiti

ব্রাজিল বনাম হাইতি (Brazil vs Haiti) ম্যাচে ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল, এক গোল ভিনিসিয়াসের। তবে স্কোরলাইনের বাইরেও নজর কেড়েছে ব্রাজিলের দলগত ফুটবল। নেইমারহীন যুগে নতুন নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিল ভিনি ও তার সতীর্থরা। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে (Brazil vs Haiti) ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল ব্রাজিল ৩, হাইতি ০। সংখ্যাটা সহজ। কিন্তু মাঠে যা দেখা গেল, তা শুধু জয় নয়—এ যেন এক নতুন ব্রাজিলের গল্প। যেখানে একার জাদু নয়, দলগত ছন্দই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

(Brazil vs Haiti) ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছিল ব্রাজিল। চতুর্থ মিনিটে কার্লেন্স আর্কাসের কঠোর ট্যাকলে হলুদ কার্ড দেখিয়ে দেন রেফারি। এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে সেলেসাওরা। যদিও ৪, ১২ ও ১৩ মিনিটে যথাক্রমে ম্যাথিউস কুনহা, রাফিনিয়া এবং দানিলো অফসাইডের ফাঁদে পড়ে সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট করেন।

১৭ মিনিটে ভিনিসিয়াসের ডান পায়ের জোরালো শট রিকার্দো আদে ব্লক করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। সেই মুহূর্তেই বোঝা যাচ্ছিল, বাম প্রান্তে ভিনির গতি ও ড্রিবলিং নিয়ে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে হাইতির রক্ষণ।

২৩ মিনিটে প্রথম বড় সেভ করেন হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে ভিনিসিয়াস বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শট নেন। কিন্তু গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় তা আটকে দেন। তবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই ভেঙে যায় প্রতিরোধ। (Brazil vs Haiti) দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ম্যাথিউস কুনহা ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

২৯ মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রাফিনিয়া। লুকাস পাকেতার দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে নেওয়া তার শটও বাঁচিয়ে দেন প্লাসিদে।

আন্সেলত্তির আমলে স্বাধীন, রিয়ালের ছবি ব্রাজিলে ফেরাতে মরিয়া ভিনিসিয়াস

৩৬ মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া দ্রুত আক্রমণে ভিনিসিয়াসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বাম দিক দিয়ে এগিয়ে যান কুনহা। এরপর দুর্দান্ত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। স্কোরলাইন তখন ২-০।

৪০ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রাফিনিয়া। তার পরিবর্তে নামেন তরুণ রায়ান। এই পরিবর্তন সত্ত্বেও আক্রমণের ধার কমেনি ব্রাজিলের।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আসে ভিনিসিয়াসের প্রাপ্য পুরস্কার। পাকেতার সূক্ষ্ম থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। গোল করার পর তার উদযাপনে ছিল আত্মবিশ্বাস, ছিল দায়িত্ব নেওয়ার বার্তা। নেইমার ছাড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যে নিরাপদ হাতে রয়েছে, সেটাই যেন জানিয়ে দিলেন তিনি। (Brazil vs Haiti) বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৪৬ মিনিটে ডমিনিক সিমন ও উইলসন ইসিদরকে নামান কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে। ৪৯ মিনিটে ইসিদরের দূরপাল্লার শট ব্লক হয়ে যায়।

৬৩ মিনিটে হাইতির সবচেয়ে ভালো সুযোগটি তৈরি হয়। কর্নার থেকে রিকার্দো আদের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন অ্যালিসন বেকার। এরপর ৬৪ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও এন্দ্রিক। কুনহা উঠে যাওয়ার সময় দর্শকদের করতালিই বলে দিচ্ছিল, কী অসাধারণ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

৬৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন ডগলাস সান্তোস। ৭২ মিনিটে কঠোর ট্যাকলের জন্য বুকিং হয় হাইতির ড্যানলি জ্যাঁ জ্যাকের। ৭৬ মিনিটে ডগলাস সান্তোসের শট বার অনেকটা ওপর দিয়ে চলে যায়। ৭৮ মিনিটে অফসাইড ধরা পড়েন এন্দ্রিক।

৮১ মিনিটে ভিনিসিয়াসকে তুলে নেন কার্লো আন্সেলত্তি। তার জায়গায় নামেন দানিলো সান্তোস। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের করতালি আর উচ্ছ্বাস বুঝিয়ে দিচ্ছিল, ম্যাচের সেরা ফুটবলার কে ছিলেন।

শেষদিকে হাইতি কয়েকবার চেষ্টা করেছিল অন্তত একটি গোল শোধ করার। ৮৭ ও ৯৩ মিনিটে উইলসন ইসিদর এবং ডমিনিক সিমনের শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন অ্যালিসন। অতিরিক্ত সময়ে এডারসনের একটি সুযোগও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে ৩-০। কিন্তু এই জয়ের আসল গল্প সংখ্যার চেয়ে বড়। (Brazil vs Haiti) ভিনিসিয়াস গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট করেছেন, আক্রমণ গড়েছেন। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, ব্রাজিল এদিন একসঙ্গে খেলেছে। নেইমারের ব্যক্তিগত জাদুর অপেক্ষায় না থেকে দল হিসেবে জিতেছে।

হয়তো এটাই নতুন ব্রাজিলের পরিচয়। আর সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে লেখা থাকল—ভিনিসিয়াস জুনিয়র এর নাম।

বোনকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই বিশ্বকাপের নায়ক, চোখে জল আনবে আইভরি কোস্টের তারকার গল্প


Exit mobile version