Site icon Hindustan News Point

কেন হলুদ জার্সি পরে ব্রাজিল? নেপথ্যে লুকিয়ে ট্র্যাজেডি, জানুন চমকপ্রদ ইতিহাস

Brazil Yellow Jersey

কলকাতার গলি থেকে কোপাকাবানার সমুদ্রসৈকত— ফুটবলের ভাষা আলাদা হলেও ব্রাজিলকে ঘিরে আবেগ একই। পেলে, জিকো, রোনাল্ডো, রোনালডিনহো, কাকা থেকে নেইমার— প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে রাজত্ব করেছে ব্রাজিল। আর সেই আবেগের সবচেয়ে বড় প্রতীক হলো সেলেকাওদের বিখ্যাত হলুদ জার্সি (Brazil Yellow Jersey) । কিন্তু জানেন কি, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই জার্সির জন্ম হয়েছিল এক জাতীয় ট্র্যাজেডির পর?

FIFA বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ১১ জুন থেকে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোয় মিলিয়ে বসতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ। ৪৮টি দেশের মধ্যে আবারও অন্যতম ফেভারিট পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। আর ব্রাজিল মানেই সেই উজ্জ্বল হলুদ জার্সি (Brazil Yellow Jersey) । মাঠে নামার আগে থেকেই যে জার্সি প্রতিপক্ষের মনে চাপ তৈরি করে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, একসময় ব্রাজিলের জার্সির রং ছিল সাদা।

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ। নিজেদের মাটিতে ফাইনালে উঠেছিল ব্রাজিল। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে লক্ষ সমর্থকের সামনে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নামেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। কিন্তু সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হারতে হয় স্বাগতিকদের। ইতিহাসে যা আজও ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত।

সেই পরাজয়ের ধাক্কা এতটাই গভীর ছিল যে সাদা জার্সিকেই দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করেন অনেকেই। এরপর ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, দেশের জাতীয় পতাকার সব রং ব্যবহার করে তৈরি হবে নতুন জার্সি।

আরও পড়ুন: ভারত নেই, তবু বিশ্বকাপে থাকবে ভারতীয় ছোঁয়া! নজরে এই ৪ ফুটবলার

একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর সেখানে জয়ী হন মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণ সংবাদপত্রের অলঙ্করণ শিল্পী— অ্যালডির গার্সিয়া শ্লি। তাঁর ডিজাইনেই জন্ম নেয় বিখ্যাত (Brazil Yellow Jersey) ‘ক্যানারিনহো’ জার্সি— হলুদ শার্ট, সবুজ ট্রিম, নীল শর্টস এবং সাদা মোজা।

১৯৫৪ সালে প্রথমবার সেই (Brazil Yellow Jersey) জার্সি পরে মাঠে নামে ব্রাজিল। তারপরের ইতিহাস শুধু সাফল্যের। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২— মোট পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল জাতিতে পরিণত হয় সেলেকাও।

তবে গত ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই থেকে গেছে ব্রাজিলের। ২০০২ সালে জাপানের ইয়োকোহামায় ক্যাফু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর আর বিশ্বসেরা হতে পারেনি তারা। বরং এসেছে একের পর এক হতাশা। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির বিরুদ্ধে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় দুঃস্বপ্ন।

তবুও ব্রাজিল মানেই আশা। ব্রাজিল মানেই নতুন স্বপ্ন। নতুন কোচ কার্লো আনসেলোত্তির হাত ধরে ২০২৬ বিশ্বকাপে ষষ্ঠ তারকার খোঁজে নামবে সেলেকাও। নেইমারের অভিজ্ঞতা, ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গতি, রাফিনিয়ার সৃজনশীলতা এবং ব্রুনো গিমারায়েসের নেতৃত্ব— সব মিলিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিল সমর্থকরা।

কলকাতার চায়ের আড্ডা হোক কিংবা রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখা— ব্রাজিলকে ঘিরে উন্মাদনা কখনও কমে না। তাই এবারও (Brazil Yellow Jersey) হলুদ জার্সি গায়ে যখন মাঠে নামবে সেলেকাওরা, তখন শুধু ১১ জন ফুটবলারের লড়াই নয়, কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্নও ছুটবে তাদের সঙ্গে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের সূচি

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০২৬ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এডারসন, ওয়েভারটন

ডিফেন্ডার: ওয়েসলি, ডগলাস সান্তোস, অ্যালেক্স সান্দ্রো, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস, মারকুইনহোস, দানিলো, ব্রেমার, ইবানেজ, লিও পেরেইরা

মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো সান্তোস, ফ্যাবিনহো, লুকাস পাকুয়েতা, রাফিনহা, নেইমার

ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়াস জুনিয়র, লুইজ হেনরিক, ম্যাথিউস কুনিয়া, গাব্রিয়েল মার্তিনেলি, ইগর থিয়াগো, এন্ড্রিক, রায়ান।

আরও পড়ুন: ফের বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাইবেন ‘Dai Dai’


Exit mobile version