Site icon Hindustan News Point

Indian Football: সঠিক পদক্ষেপই পারে বাঙালির ফুটবল প্রতিভা তুলে আনতে

Indian football

কুশল চক্রবর্তী
সেটা ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস। ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের এশিয়া কাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক ম্যাচের দল ঘোষণা হওয়ার পর দেখা গিয়েছিল মাত্র একজন বাঙালি খেলোয়াড় সেই দলে নির্বাচিত হয়েছেন (Indian Football)। তাঁর নাম শুভাশিস বোস। সে দলে কিন্তু আরেক জন বাঙালি খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁর নাম প্রীতম কোটাল। কিন্তু তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন কেরালা থেকে। এবারের ২০২৬ সালের ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলে যে একমাত্র বাঙালি খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর নাম রহিম আলি। তিনিও নির্বাচিত হয়েছেন চেন্নাই থেকে।

অথচ নজর করে দেখুন ভারতের জাতীয় ফুটবল দলে কলকাতা থেকে মানে কলকাতার মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল থেকে যে আট জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা কেউই বাঙালি নন। তা হলে বোঝাই যাচ্ছে, যে বাঙালি তাদের রাজ্যের সেরা দলে সুযোগ পায় না, তাদের ভারতীয় জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার আশা কতটা। যে ভারতীয় ফুটবল দলে একসময় চুনী, পিকে থেকে আরম্ভ করে সুরজিৎ সেনগুপ্ত, সুভাষ ভৌমিক, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, অলোক মুখোপাধ্যায়, তরুণ দে, তুষার রক্ষিত, কৃশানু দে, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের মত বাঙালি খেলোয়াড়রা রমরম করত, আজ তা এসে দাঁড়িয়েছে একমাত্র রহিম আলিতে। তাও কিনা তাঁকে ভারতীয় দলে আসতে হচ্ছে চেন্নাই থেকে। (Indian Football)

আশা জাগিয়েও বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছতে পারল না ইতালি

কলকাতার মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল থেকে কারা নির্বাচিত হয়েছেন, বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, জিকসন সিং, আপুইয়া, সাহাল আবদুল সামাদ, এডমুন্ড, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং। এই হাল দেখে যে কারও মনে হতে পারে যে, বাংলা তথা কলকাতায় ফুটবলের আর তেমন চর্চা নেই। এই প্রসঙ্গে ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক, অলোক মুখোপাধ্যায় বললেন, “আমরা যখন ফুটবল খেলতাম, তখন বাংলার মফস্বলে বা মহকুমা শহরগুলোতে ছিল ফুটবলের দারুণ চর্চা। কী দারুণ সব খেলা হতো জেলার মাঠে। ছোট ছোট ক্লাবের মধ্যে ছিল দারুণ প্রতিযোগিতা। এই জেলার মাঠে থেকেই তো উঠে এসেছে সুধীর কর্মকার, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, বিদেশ বোস, তরুণ দে, প্রতাপ ঘোষের মতো আরও কত দারুণ সব ফুটবল খেলোয়াড়। আমিও একজন জেলার মাঠে থেকে উঠে আসা ফুটবলার হয়ে বুঝতে পারি, ওখানে খেলতে গেলে কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়াও আছে, কলকাতা ময়দানে এখন কলকাতা লিগের খেলাই প্রায় হয় না। লিগের খেলা ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে অনেক ফুটবলপ্রেমী মানুষই আজ আর কলকাতা লিগের খেলা দেখতে কল্যাণী, নৈহাটি যেতে পারেন না। তার ফলে ময়দানের সঙ্গে যে ফুটবল জহুরীদের একটা প্রাণের টান ছিল তা চলে যাচ্ছে। তারাই তো এইসব ছোট ছোট খেলা থেকে আগামী দিনের তারকাদের তুলে আনতেন। এই যে রহিম আলি, এই ছেলেটি আমার বাড়ির কাছে ইছাপুরের ছেলে। কী কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই না ও আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। কলকাতার ফুটবল দলে সুযোগ না পেয়ে চলে গেছে চেন্নাইয়ে। আজকাল জুনিয়ার লেভেলে এরকম লড়াই দেখি কই।” অলোক মুখোপাধ্যায়ের কথায় একটা জিনিস বোঝা গিয়েছে যে, জেলাস্তরের ফুটবলকে আবার সেইভাবে প্রাধান্য দিতে হবে, না হলে বাংলার ফুটবল বাঁচবে না। (Indian Football)

এখন ভিন রাজ্যের প্লেয়ারের দাপট

ভারতীয় ফুটবলের এক প্রখ্যাত স্টপার, যিনি কি না দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে জেলা ফুটবল থেকে পাদ প্রদীপের আলোয় এসেছেন, তিনি বলছেন, “আগের দিনে গ্রামেগঞ্জে ফুটবল খেলার চল ছিল। তার সঙ্গে ছিল, মুরারি শুর, খোকনদা, বেচাদার মতো ফুটবল অন্তঃপ্রাণ মানুষেরা। তাঁরা গ্রাম থেকে, জেলা থেকে আগামী দিনের ফুটবল প্রতিভাদের তুলে আনতেন। আর আজ কিছু কিছু অ্যাকাডেমি হয়েছে, তারা বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চেষ্টা করছে নবীন প্রতিভা তুলে আনতে। কিন্তু তাদের অনেকেই সঠিক প্রশিক্ষকের হাতে পড়ছে না। তায় আবার আছে বয়স ভাঁড়ানোর চিরকালীন অভিশাপ। অনেক সময়ই নবীন প্রতিভারা বেশি বয়সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছে তাদের প্রকৃত সত্ত্বা। অন্যদিকে ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে খেলে যারা পাদ প্রদীপের সামনে আসছে, তারাও হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত প্রতিযোগিতায় গিয়ে। অতএব ফুটবলের সংগঠনকেও এগিয়ে আসতে হবে ফুটবলকে আরও বেশী করে স্বচ্ছ করে তোলার জন্য। তবেই হয়তো একদিন বাঙালির ফুটবল আবার উঠে আসবে ভারতীয় শিখরে।” (Indian Football)

Hindustan News Point-কে Whatsapp-এ Follow করতে ক্লিক করুন


Exit mobile version