Site icon Hindustan News Point

জোড়া গোলে সমালোচনার জবাব, মেসির নাম শুনেই কী করলেন রোনাল্দো?

Cristiano Ronaldo

[ছবি:এক্স]

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক ড্রয়ের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন (Cristiano Ronaldo) ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে সমালোচকদের জবাব দিলেন মাঠেই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বললেও, লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তা কার্যত এড়িয়ে যান পর্তুগিজ মহাতারকা।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল অপ্রত্যাশিতভাবে। গ্রুপ কে-র প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্র করেছিল রোনাল্দোর দল। সেই ম্যাচে ৪১ বছর বয়সি (Cristiano Ronaldo) রোনাল্দো একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন— এখনও কি পর্তুগালের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী?

তবে সমালোচনার সেই ঝড় বেশিদিন স্থায়ী হতে দিলেন না রোনাল্দো। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ৫-০ গোলের বড় জয়ে তিনি করেন জোড়া গোল। সেই সঙ্গে গ্রুপের শীর্ষস্থানও দখল করে নেয় পর্তুগাল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার প্রসঙ্গে (Cristiano Ronaldo) রোনাল্দো বলেন, “এটা খুব কঠিন একটা সপ্তাহ ছিল। আমাদের দলকে, সব খেলোয়াড়কে এবং বিশেষ করে আমাকে ও কোচকে নিয়ে খুব কঠোর সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।”

(Cristiano Ronaldo) তিনি আরও বলেন, “এগুলো আমাকে বিরক্ত করে না। আমি ২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখন সবকিছু ভালো যায়, তখন সবাই বলে ক্রিশ্চিয়ানো অসাধারণ। আর যখন খারাপ যায়, তখন বলা হয় আমি শেষ হয়ে গেছি, আমি বয়স্ক হয়ে গেছি। এভাবেই সবসময় চলবে।”

রোনাল্দোর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে সমালোচনা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি এবং এখনও নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিতে বিশ্বাস করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে যখন এক সাংবাদিক তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ তোলেন। বর্তমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসি ইতিমধ্যেই দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন এবং আর্জেন্তিনাকে গ্রুপ জে-র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছেন।

কিন্তু মেসির নাম উচ্চারণ হতেই (Cristiano Ronaldo) রোনাল্দোর প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্নটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মাথা ঘুরিয়ে অন্য এক সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে বলেন, “পরের প্রশ্ন করুন।”

অর্থাৎ, মেসি প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতেই আগ্রহী ছিলেন না পর্তুগিজ অধিনায়ক। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির একটিকে ঘিরে বছরের পর বছর আলোচনা চললেও, এই মুহূর্তে রোনাল্দোর পুরো মনোযোগ যে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানে, তাঁর আচরণে সেটাই স্পষ্ট।

বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ কে-র শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল। তবে নকআউট পর্বে ওঠা নিশ্চিত করতে তাদের এখনও শেষ গ্রুপ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভালো ফল করতে হবে।

অন্যদিকে আর্জেন্তিনা ইতিমধ্যেই নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। ফলে দুই দল নিজেদের নকআউট ম্যাচ জিততে পারলে আগামী ১২ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে বহু প্রতীক্ষিত রোনাল্দো বনাম মেসি দ্বৈরথ দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন সেই সম্ভাবনার দিকেই তাকিয়ে। কারণ দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি মুখোমুখি লড়াই নিঃসন্দেহে হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফুটবল মুহূর্ত।

৪৪.৩ ডিগ্রির আগুনে পুড়ছে ইউরোপ! গরম থেকে বাঁচতে জলে ঝাঁপ, ফ্রান্সে ডুবে মৃত্যু ৫০ জনেরও বেশি


Exit mobile version