এশিয়ার মঞ্চে আরও একবার ট্রফির খুব কাছে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হল ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে (Cristiano Ronaldo) । আর সেই হতাশাই যেন বিস্ফোরিত হল ম্যাচ শেষে। এ এফ সি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকা-র কাছে ১-০ গোলে হারার পর রানার্স-আপ মেডেল নিতে অস্বীকার করলেন রোনাল্ডো। সতীর্থদের ছেড়ে একাই সরাসরি টানেলে ঢুকে যান তিনি।
রিয়াধের আল-আওয়াল পার্কে ফাইনালে নামার আগে আল-নাসর ছিল ফেভারিট। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে পৌঁছেছিল সৌদি ক্লাবটি। কিন্তু বড় ম্যাচে পরিকল্পনা ভেস্তে দিল গাম্বা ওসাকা। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে তুর্কি ফরোয়ার্ড ডেনিজ হাম্মাতের একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়ে জাপানি ক্লাব। ভিএআর চেকের পর গোল বৈধ ঘোষণা হতেই স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা স্টেডিয়াম।
ম্যাচের বাকি সময় জুড়ে বলের দখল, আক্রমণ, শট—সবেতেই এগিয়ে ছিল আল-নাসর। কিন্তু গোলের সামনে ব্যর্থতা তাড়া করে বেড়ায় রোনাল্ডোদের। বিশেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। পাঁচটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ম্যাচে মাত্র ৩২ বার বল স্পর্শ করেন তিনি এবং বারবার ওসাকার ডিফেন্সে আটকে যান।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে জোয়াও ফেলিক্সের বাড়ানো বল থেকে একেবারে কাছ থেকে হেড করেছিলেন রোনাল্ডো। কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ফেলিক্স নিজেও গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন সেদিন আল-নাসরের বিপক্ষেই ছিল।
শেষ বাঁশি বাজার পরেই দেখা যায় হতাশায় মাথা নাড়ছেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) । সতীর্থরা যখন দর্শকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, তখন CR7 একা হেঁটে মাঠ ছাড়েন। পরে কোচ হোর্হে জেসুস দলের বাকি ফুটবলারদের নিয়ে রানার্স-আপ মেডেল নিতে গেলেও সেখানে দেখা যায়নি রোনাল্ডোকে। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে সৌদি ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত বড় কোনও আন্তর্জাতিক বা মহাদেশীয় ট্রফি জিততে পারেননি রোনাল্ডো। ফলে এই হার যে তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে, তা স্পষ্ট। কয়েকদিন আগেই সৌদি প্রো লিগ জয়ের সুযোগও হাতছাড়া করেছিল আল-নাসর। আল-হিলালের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করে তারা। সেই ধাক্কা কাটার আগেই এল আরও বড় হতাশা।
তবে মরসুম এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সৌদি প্রো লিগে এখনও শীর্ষে রয়েছে আল-নাসর। শেষ ম্যাচে দামাককে হারাতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে রোনাল্ডোর দল। সেই ট্রফিই হতে পারে সৌদি আরবে (Cristiano Ronaldo) CR7-এর প্রথম বড় সাফল্য।
ম্যাচ শেষে আল-নাসর কোচ হোর্হে জেসুস বলেন, “প্রথম ৩০ মিনিট আমরা ভালো খেলতে পারিনি। তারপর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, কিন্তু প্রতিপক্ষ তাদের একমাত্র সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে। সামনে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে।”
অন্যদিকে ম্যাচের নায়ক ডেনিজ হাম্মাত বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে খুব নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে দারুণ লাগছে। এখন শুধু উদযাপনের সময়।”
একদিকে গাম্বা ওসাকার উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে রোনাল্ডোর নিঃশব্দ ক্ষোভ—এভাবেই শেষ হল এশিয়ার এই বড় ফাইনাল। তবে (Cristiano Ronaldo) CR7-র চোখে এখনও শেষ স্বপ্নটা বেঁচে আছে। সৌদি লিগের শেষ ম্যাচই ঠিক করবে, এই মরসুমটা স্মরণীয় হবে নাকি আরও এক হতাশার গল্প হয়ে থাকবে।
ডার্বির মঞ্চেই খেতাবের লড়াই, আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান: Cristiano Ronaldo: ‘মেডেল নিতেও রাজি নন রোনাল্ডো!’ আল-নাসরের হারেই ক্ষোভে মাঠ ছাড়লেন CR7
