ইতিহাসের বোঝা কাঁধে নিতে নারাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অতীতের ফল নয়, ১ মার্চের ম্যাচই এখন একমাত্র লক্ষ্য। ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন দলের কোচ ড্যারেন স্যামি (Darren Sammy)। তাঁর কথায়, “ইতিহাস সব সময় পুনরাবৃত্তি হয় না। এটা ভিন্ন দল। আমরা প্রস্তুত।” সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছেন ম্যাচটির গুরুত্ব কতটা।
ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুখস্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতিই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। স্যামির ভাষায়, “আমার ছেলেরা সেরাটা দেওয়ার জন্য তৈরি। এত দর্শকের সামনে খেলতে নামব। জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।” কলকাতার সমর্থকদের প্রশংসা করে তিনি জানান, এই শহরের আবেগ আলাদা, সেই আবহেই নিজেদের প্রমাণ করতে চায় দল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারের প্রসঙ্গ উঠতেই ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন তিনি (Darren Sammy)। আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও যে ভাবে রান তোলা হয়েছে, তাতে ব্যাটিং গভীরতার প্রমাণ মিলেছে বলে তাঁর দাবি। “একটা ম্যাচ হারলেই বোলারদের খারাপ বলা যায় না। আমার বোলাররা ভালো বল করেছে,” মন্তব্য কোচের।
ভারতের শক্তি সম্পর্কেও যথেষ্ট সচেতন তিনি। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণ। স্যামি মনে করেন, বরুণ চক্রবর্তী এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা স্পিনার। তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না। “দুই দলেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে। যারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।” ভারতীয় দলের ১১ জনকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি।
পিচ সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ, উইকেটে কিছুটা শুকনো ভাব রয়েছে। ব্যাটার ও বোলার—দু’পক্ষের জন্যই সুযোগ থাকবে। টস ৫০-৫০ হতে পারে বলেও মত তাঁর। সব কিছুর উপরে মানসিক দৃঢ়তাকেই বড় করে দেখছেন তিনি। দলের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্দিষ্ট, সেই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করাই লক্ষ্য।
১ মার্চের ম্যাচ তাঁর কোচিং জীবনের বড় চ্যালেঞ্জও বটে। সমীকরণ স্পষ্ট—জিতলে এগোনো, হারলে বিদায়। তবু চাপকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ স্যামি। বলেন, “আমরা আমাদের প্রক্রিয়া মেনে চলব। আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে খেলা কঠিন, সেটা জানি। তবে এটাও একটা ম্যাচ।” শেষে হাসিমুখেই যোগ করলেন, “জিতলে উদযাপন হবে দারুণ।”

