Site icon Hindustan News Point

DC vs KKR: বোলারদের শুরুর পর সেঞ্চুরিতে অ্যালেনের ফিনিশ, দিল্লিকে ওড়াল KKR

dc vs kkr

প্লে-অফের স্বপ্ন তখন প্রায় শেষের মুখে। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই ঘুরে দাঁড়াল কলকাতা নাইট রাইডার্স (DC vs KKR)। ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে রিঙ্কু সিংয়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল জয়ের পথচলা, আর এবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল অজিঙ্ক রাহানের দল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবলের আট নম্বর থেকে সাত নম্বরে উঠে এল কেকেআর। আর এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিলেন ফিন অ্যালেন। নিউ জিল্যান্ডের এই বিধ্বংসী ওপেনার মাত্র ৪৭ বলে দুরন্ত শতরান করে ম্যাচ একাই কার্যত শেষ করে দেন।

গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। কেকেআরের প্রাক্তন অধিনায়ক ও মেন্টরের উপস্থিতি যেন দলকে আরও উজ্জীবিত করে তোলে। ভারতীয় নির্বাচক আরপি সিং এবং বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার পাশে বসে ম্যাচ উপভোগ করেন গম্ভীর। তাঁর মেন্টরশিপেই কেকেআর তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল। সেই পুরনো সম্পর্কের আবেগ যেন ফের ছুঁয়ে গেল নাইট শিবিরকে।

টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা। শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিংয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেন নাইট বোলাররা। চলতি আইপিএলের শুরুতে বোলিং নিয়েই সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিল কেকেআর। মাঝপথে সেই বোলিং ব্যাকফায়ার করলেও টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে আবার পুরনো ধার ফিরে পেয়েছে তারা। দিল্লিকে মাত্র ১৪২ রানে আটকে দেওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা নেন অনুকূল রায় ও কার্তিক ত্যাগী। দু’জনেই নেন জোড়া উইকেট। এছাড়া বৈভব আরোরা, সুনীল নারিন ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট পান। বরুণ চক্রবর্তী উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে চাপ তৈরি করেন।

দিল্লির হয়ে ওপেনার পথুম নিশাঙ্কা ২৯ বলে ৫০ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেএল রাহুল। ১৪ বলে ২৩ রান করে আউট হলেও তিনি ইতিহাস গড়েন। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনটি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১০০০ রান পূর্ণ করলেন রাহুল। পাঞ্জাব কিংস, লখনউ সুপার জায়ান্টস ও দিল্লি ক্যাপিটালস—তিন দলের হয়েই এই নজির গড়লেন তিনি।

রাহুল ফিরতেই ধসে পড়ে দিল্লির মিডল অর্ডার। নীতীশ রানা, সমীর রিজভি, ত্রিস্তান স্টাবস, অক্ষর প্যাটেল—এক এক করে ব্যর্থ হন সকলে। শেষদিকে আশুতোষ শর্মার ২৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস দিল্লিকে কিছুটা লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে গেলেও এই পিচে ১৪২ রান যে যথেষ্ট নয়, তা পরিষ্কার ছিল। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে দিল্লি মাত্র ২০ রান তোলে এবং হারায় দুই উইকেট—যা চলতি আইপিএলে এই পর্যায়ে সবচেয়ে কম রান।

১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকেন ফিন অ্যালেন। যদিও অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে মাত্র ১৩ রান করে ফেরেন এবং অঙ্গকৃষ রঘুবংশীও মাত্র ১ রান করেন, তবুও ম্যাচে কোনও প্রভাব পড়তে দেননি অ্যালেন। ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ বলে ১১৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।

অ্যালেনের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ১০০ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১০টি বিশাল ছক্কা। ২১২.৭৭ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসে বেশিরভাগ রানই আসে লেগ সাইডে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি আইপিএলে লেগ সাইডে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটার এখন ফিন অ্যালেন। তাঁর মোট রানের ৭৭ শতাংশই এসেছে লেগ সাইড থেকে। অন্যদিকে ক্যামেরন গ্রিন ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে নিখুঁত সঙ্গ দেন তাঁকে। মাত্র ১৪.২ ওভারেই জয়ের রান তুলে নেয় কলকাতা।

রাজস্থান ম্যাচের পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছে কেকেআরের শরীরী ভাষা। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে পুরো দল। এখন প্লে-অফের রাস্তা কঠিন হলেও টানা চার জয়ের পর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে নাইট শিবির।


Exit mobile version