আইএসএলে প্রত্যাশামতো ফল না আসায় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) শিবিরে বাড়ছে চাপ। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে ক্লাবের শীর্ষকর্তারা বৈঠকে বসতে চলেছেন বলে খবর। সেই বৈঠকেই কোচ অস্কার ব্রুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে ময়দানের অন্দরে জল্পনা চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, খারাপ ফলের জেরেই কি লাল-হলুদে ব্রুজো অধ্যায়ের ইতি ঘটতে চলেছে?
মরসুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) কিছুটা ভাল খেললেও পরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। একাধিক ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে দলকে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা বারবার দেখা গিয়েছে। ফলে লিগের লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে লাল-হলুদ।
গত ম্যাচেও একই ছবি দেখা যায়। জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে তিন পয়েন্টের বদলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইস্টবেঙ্গলকে। সেই ফলের পর থেকেই সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। গ্যালারিতে থেকে কোচের বিরুদ্ধে অসন্তোষের সুরও শোনা যায়। ক্লাব কর্তাকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান সমর্থকেরা। ব্রুজোকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি তোলেন সমর্থকেরা।
এর মধ্যেই কোচ ব্রুজোর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ নাকি দলের উন্নতি চান না এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্লাবের এক কর্তা পাল্টা জানিয়ে দেন, কোচ পেশাদার—আজ আছেন, কাল নাও থাকতে পারেন।
সব মিলিয়ে আইএসএলের মাঝপথেই ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) শিবিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। দলের ফলাফল, কোচের মন্তব্য এবং সমর্থকদের ক্ষোভ—এই সব কিছু মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ক্লাবকর্তাদের বৈঠকের উপর। ময়দানের নজর এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।

