Site icon Hindustan News Point

শেষ কবে ন্যাশনাল লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল? কী হয়েছিল ফলাফল? ফিরে দেখুন ২২ বছর আগের ঘটনা

East Bengal FC

একটা সময় ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) মানেই ছিল সাফল্য, আবেগ আর ট্রফির নিশ্চয়তা। দেশের সেরা লিগের মঞ্চে লাল-হলুদের উপস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে ভারতীয় ফুটবলের কাঠামো, বদলেছে প্রতিযোগিতার নাম— জাতীয় লিগ থেকে আই-লিগ, তারপর আইএসএল। শুধু বদলায়নি একটাই অপেক্ষা— ইস্টবেঙ্গল আবার কবে দেশের শীর্ষ লিগ জিতবে?

আজ যখন নতুন করে আইএসএল জয়ের সম্ভাবনা সামনে এসেছে, তখন ফিরে দেখা দরকার সেই ইতিহাস— কোথা থেকে শুরু হয়েছিল জাতীয় লিগ, আর শেষবার কবে দেশের সেরা হয়েছিল লাল-হলুদ।

জাতীয় লিগের শুরু: ভারতীয় ফুটবলের নতুন অধ্যায়

১৯৯৬ সালে ভারতীয় ফুটবলে শুরু হয় জাতীয় পর্যায়ের ক্লাব প্রতিযোগিতা ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (NFL)। তার আগে দেশের ফুটবল মূলত রাজ্যভিত্তিক লিগ, বড় ক্লাব প্রতিযোগিতা এবং ফেডারেশন কাপকে ঘিরেই আবর্তিত হত। ভারতীয় ফুটবলকে আরও পেশাদার এবং জাতীয় কাঠামোয় আনার লক্ষ্যেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন এই লিগ চালু করে।

১৯৯৬–৯৭ মরশুমে প্রথমবার জাতীয় লিগ আয়োজন করা হয় এবং উদ্বোধনী সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয় জেসিটি। এরপর খুব দ্রুতই কলকাতার দুই প্রধান— ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) ও মোহনবাগান— এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে ওঠে।

ইস্টবেঙ্গলের শেষ জাতীয় লিগ জয়: ২০০৩–০৪, এক সোনালি স্মৃতি

(East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের শেষ জাতীয় লিগ জয়ের জন্য ফিরে যেতে হবে ২০০৩–০৪ মরশুমে। তখনও লিগের নাম ন্যাশনাল ফুটবল লিগ। দলের দায়িত্বে ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল শুধু চ্যাম্পিয়ন হয়নি, গোটা মরশুমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে— জাতীয় লিগ তখন বর্তমান আইএসএলের মতো প্লে-অফ বা ফাইনাল নির্ভর ছিল না। ফলে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) কোনও নির্দিষ্ট দলকে হারিয়ে ফাইনাল জিতে ট্রফি তোলেনি। পুরো মরশুমে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল। তবে সেই লিগে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ডেম্পো ও মাহিন্দ্রা ইউনাইটেড। মারগাঁও-এর নেহেরু স্টেডিয়ামে ৩-২ ইস্ট বেঙ্গল ডেম্পোকে পরাজিত করে।

সেই দল (East Bengal FC) ছিল ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড। সামনে ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, আলভিটো ডি’কুনহাদের মতো তারকা। আক্রমণ, গোল করার ক্ষমতা এবং ধারাবাহিকতায় সেই সময়ের ইস্টবেঙ্গল ছিল দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর দল।

আর সেই শিরোপাই আজও লাল-হলুদের শেষ জাতীয় লিগ জয়।

শেষ ম্যাচেই ফয়সালা, কোথায় ও কখন দেখবেন ISL ‘ফাইনাল’? রইল বিস্তারিত: শেষ কবে ন্যাশনাল লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল? কী হয়েছিল ফলাফল? ফিরে দেখুন ২২ বছর আগের ঘটনা

জাতীয় লিগ থেকে আই-লিগ, তারপর আইএসএল— কিন্তু ট্রফি এল না

২০০৭ সালে ভারতীয় ফুটবলের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় ফুটবল লিগের এর নাম বদলে রাখা হয় আই-লিগ । শুধু নামই নয়— বদলায় লিগের কাঠামো, সম্প্রচার, ক্লাব লাইসেন্সিং এবং বাণিজ্যিক মডেল। তারপর ২০১৪ সালে শুরু হয় ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)। কয়েক বছরের মধ্যে সেটাই দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়। এই পুরো পরিবর্তনের সময়ে বহু ক্লাব নিজেদের নতুন করে তৈরি করেছে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে গল্পটা আলাদা।

২২ বছরে ২৮ কোচ— কোথায় হারাল ধারাবাহিকতা?

গত দুই দশকে ইস্টবেঙ্গলে (East Bengal FC) এসেছে একের পর এক কোচ, বিদেশি ফুটবলার, নতুন পরিকল্পনা, নতুন ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ফলাফল? ২২ বছরে প্রায় ২৮ বার কোচ পরিবর্তন হয়েছে। কোনও দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল দর্শন দাঁড় করানো যায়নি। যে ক্লাব একসময় ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে বারবার বদল হয়েছে পরিকল্পনা। ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে— স্থিরতা ছাড়া বড় ট্রফি জেতা কঠিন।

এবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরই ঘরের ছেলে, তবে ২০২৬ মরশুমে আবার সুযোগ এসেছে। আইএসএলের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আর সেই পথেই উঠে এসেছে এক আবেগঘন নাম— অভিজিৎ মণ্ডল।

একসময় ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ছিলেন তিনি। আজ কোচিংয়ের দায়িত্বে থেকে ইন্টার কাশীর লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছেন। হাবাস সরে যাওয়ার পর তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন আরেক বাঙালি ফুটবল মস্তিষ্ক অরিন্দম ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা, বেতন বিতর্কের মধ্যেও ইন্টার কাশী লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে। ফলে প্রশ্নটা শুধু ফুটবলের নয়, আবেগেরও—২২ বছর আগে যে ট্রফি শেষবার এসেছিল লাল-হলুদে, এবার কি সেই অপেক্ষার শেষ হবে? নাকি নিজেরই ঘরের ছেলেরা থামিয়ে দেবেন ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) নতুন ইতিহাস? আজকের আইএসএলের মঞ্চ তার উত্তর দেবে।

এগিয়ে থেকেও আবেগ নয়, কাশীর বিরুদ্ধে নামার আগে বাস্তবের মাটিতে পা ইস্টবেঙ্গলের


Exit mobile version