আইএসএলের শিরোপা দৌড়ে এখন সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলির মধ্যে অন্যতম ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC vs Punjab FC)। টানা দুরন্ত পারফরম্যান্সে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে আসা লাল-হলুদ এবার ঘরের মাঠ যুবভারতীতে নামছে আরও একটি বড় পরীক্ষার সামনে। সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে অস্কার ব্রুজোর দল মুখোমুখি হবে শক্তিশালী পাঞ্জাব এফসির। হাইভোল্টেজ ম্যাচ (East Bengal FC vs Punjab FC) ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উত্তেজনা সমর্থক মহলে।
১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে আইএসএল টেবিলের এক নম্বরে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ৬টি জয়, ৩টি ড্র এবং মাত্র ১টি হার— পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা ছন্দে রয়েছে দলটি। শুধু পয়েন্ট নয়, গোল পার্থক্যেও লিগের সেরা এখন লাল-হলুদ। +১৮ গোল ডিফারেন্স কার্যত প্রতিপক্ষদের কাছে সতর্কবার্তা। আক্রমণে আগুন, রক্ষণে দৃঢ়তা এই দুইয়ের দুর্দান্ত মিশেলে এ মরশুমে নতুন চেহারার ইস্টবেঙ্গলকে দেখছে সমর্থকেরা।
বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে দলটির ফুটবল আলাদা করে নজর কেড়েছে। শেষ সাত ম্যাচে অপরাজিত ব্রুজোর ছেলেরা। তার মধ্যে শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জয়। ওডিশা এফসিকে ৩-০ উড়িয়ে দেওয়ার পর মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে দুরন্ত কামব্যাক করে ২-১ জয় লাল-হলুদের আত্মবিশ্বাস আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল এই দলের লড়াই করার মানসিকতা কতটা প্রবল। পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে জেতার ক্ষমতা এখন ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম বড় শক্তি।(East Bengal FC vs Punjab FC)
অ্যালভিটো-নবিদের দালাল বলে আক্রমণ, সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক ইস্টবেঙ্গল কোচ: East Bengal FC vs Punjab FC: শীর্ষস্থান মজবুত করতে যুবভারতীতে লাল-হলুদের সামনে পাঞ্জাব কাঁটাযুবভারতীতেও এই মরশুমে দুর্দান্ত রেকর্ড রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। ঘরের মাঠে সমর্থকদের গর্জন যেন বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে ফুটবলারদের। সোমবার জিততে পারলে আইএসএলে টানা তিন ম্যাচ জয়ের নজির গড়বে দল যা শেষবার হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ফলে এই ম্যাচ শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয় বরং শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ।
(East Bengal FC vs Punjab FC) এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ইউসেফ এজেজ্জারি। স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ইতিমধ্যেই ১০ গোল করে আইএসএলের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার উপরে। ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে আইএসএলের এক মরশুমে দ্রুততম সময়ে ১০ গোলের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন এজেজ্জারি। শুধু তিনিই নন, দলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। এখনও পর্যন্ত ৯ জন আলাদা ফুটবলার গোল করেছেন যা প্রতিপক্ষ কোচদের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ। মোট ২৭ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল এখন ইস্টবেঙ্গল।
তবে পাঞ্জাব এফসিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তারাও কিন্তু রয়েছে শীর্ষ দৌড়ে। সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক তাদের বড় শক্তি। শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে জয় পেলেও, গোটা মরশুমে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলেছে তারা। পাঞ্জাবের আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভরসা এনসুংগুসি জুনিয়র এফিয়ং। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৭ গোল। ফলে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
(East Bengal FC vs Punjab FC) দুই দলের আইএসএল ইতিহাস বলছে, মুখোমুখি লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। এখনও পর্যন্ত চারবারের সাক্ষাতে লাল-হলুদের ২টি জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হার রয়েছে। গত মরশুমে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ডাবল করেছিল কলকাতার দল। বিশেষ করে যুবভারতীর সেই ৪-২ কামব্যাক জয় এখনও সমর্থকদের স্মৃতিতে টাটকা। অস্কার ব্রুজোর অধীনে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে এখনও অপরাজিত ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে সতর্কই শোনাল ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বে নিজের ৫০তম ম্যাচের আগে তিনি বলেন, পাঞ্জাব এই মরশুমের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলির একটি। ট্রানজিশনে তারা ভয়ংকর এবং মাঝমাঠে যথেষ্ট শক্তিশালী। এক মুহূর্তের অসাবধানতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। ব্রুজোর কথাতেই স্পষ্ট, প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনও রকম আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না লাল হলুদ শিবির।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার পিভি বিষ্ণু জানান, কোচের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই দল এগোচ্ছে। ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইস্টবেঙ্গল তাঁর কাছে ঘরের মতো এবং সমর্থকদের গর্বিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
আইএসএলের শিরোপা লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ ও উত্তেজনা। আর সেই লড়াইয়ে এখন ছন্দ, আত্মবিশ্বাস ও সমর্থনের জোরে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলির একটি ইস্টবেঙ্গল। সোমবার যুবভারতীতে শুধু একটা ম্যাচ (East Bengal FC vs Punjab FC) নয় বরং শিরোপার পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।
উরভিল প্যাটেলের বিধ্বংসী ইনিংস, লখনউকে ওড়াল চেন্নাই: East Bengal FC vs Punjab FC: শীর্ষস্থান মজবুত করতে যুবভারতীতে লাল-হলুদের সামনে পাঞ্জাব কাঁটা
