কুশল চক্রবর্তী
সেটা ছিল ২০০২-০৩ সালের ভারতের জাতীয় ফুটবল লিগ। ISL-এর চিন্তাও তখন আসেনি ভারতীয় ফুটবলে। ওই প্রতিযোগিতার শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল পর পর তিনটে ম্যাচ জিতেছিল (East Bengal ISL)। ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর, ইস্টবেঙ্গল জাতীয় লিগের তৃতীয় ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ মহিন্দ্রা ইউনাইটেডকে হারিয়েছিল অ্যালভিটো ডি কুনহার গোলে। জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেবার আইলিগ বা দেশের জাতীয় লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। এবারের ২০২৫-২৬ এর ISL-এর তাজ কে পাবে তা নিয়ে একটা কথাই বলা যায়, যা কিনা শ্রদ্ধেয় কোচ প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক বার বার বলতেন, “দিল্লি বহুত দূর”। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের কাছে ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়ের হ্যাটট্রিক করার সুযোগ কিন্তু আছে। কিন্তু কাজটা কিন্তু একেবারেই সোজা নয়।
অনেক টালবাহানার পর এবারের ISL শুরু হয়েছে সংক্ষিপ্ত আকারে। এক লেগের খেলা। আর প্রতিটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাতে আবার আছে অবনমনের ভ্রূকুটি। অতএব প্রতি ম্যাচে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। ইস্টবেঙ্গল প্রথম দুটো ম্যাচ যাদের সঙ্গে খেলছে, মানে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড ও সদ্য গঠিত স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি। দুটো দলই তেমন ভাবে দল বানাতে পারেনি এবার। ইস্টবেঙ্গল এই দুই দলকে যথাক্রমে ৩-০ আর ৪-১ গোলে হারিয়ে ভালো জায়গাতেই আছে। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচ জামশেদপুরের সঙ্গে বেশ কঠিন। কারণ, তারাও কিন্তু এখন অবধি দুই ম্যাচ জিতেছে। তাদের দলেও আছে বেশ ভারসাম্য।
এবারের জামশেদপুর দলের হয়ে গোল করার জন্য আছেন মেসি বাউলি আর তাঁকে গোল বানাতে সাহায্য করার জন্য আছেন মাদিহ তালাল। এরা দু’জনই ইস্টবেঙ্গলের চেনা মুখ। আক্রমণভাগে সানান আর ঋত্বিকের গতি দেখার মতো। আর রক্ষণে স্তিফেন এজে আর প্রতীক চৌধুরী বেশ ভরসা দেওয়ার মতো খেলোয়াড়। মাঝ মাঠে প্রণয় হালদার কলকাতারই ছেলে। অতএব বোঝা যাচ্ছে জামশেদপুর ইস্টবেঙ্গলকে বেগ দিতেই মাঠে নামবে। এখনও দুই ম্যাচে তারা একটাও গোল খায়নি। তবে দুটো গোলই তারা করেছে অদ্ভুতভাবে।
অন্য দিকে ইস্টবেঙ্গল জিতছে, কারণ এবারের ইস্টবেঙ্গল গোল করতে জানে। দুই ম্যাচে চার গোল করে ইয়সেফ এজেজারি নজরে এসে গেছেন। আর স্ট্রাইকার যত নজরে আসবে, তত তাঁকে বিপক্ষ দল প্রতিরুদ্ধ করবে গোল করতে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা এখন মিগুয়েল। তাঁকে তাঁর স্বাভাবিক খেলা খেলতে দিলে বিপক্ষের বিপদ। অতএব এই দু’জনকে আটকানোর চেষ্টা যে জামশেদপুর দল করবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের মুশকিল এখন তাদের রক্ষণে। কেভিন সিবেলেকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না বলে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে বেশ কিছু ফাঁকফোকর তৈরি হচ্ছে। তারপরে আবার আক্রমণে ঝাঝ বাড়াবার
জন্য কোচ অস্কার ব্রুজো “হাই ডিফেন্স” খেলাচ্ছেন। মেসি বাউলির মতো ক্ষিপ্র গতির খেলোয়াড় তার ফলে বিপদের কারণ হতে পারেন। তাই হয়তো ইস্টবেঙ্গলের কোচ জামশেদপুরের বিরুদ্ধে খেলায় রসিদকে একটু নামিয়েই খেলাতে পারেন। কারণ, দলের স্ন্যাচিং আর ব্লকিংটা যাতে ভালো হয়।
তবে একটা জায়গায় অবশ্যই পিছিয়ে আছে জামশেদপুর, তা হল শব্দব্রহ্ম। এখন অবধি যে দুটো ম্যাচ ইস্টবেঙ্গল খেলছে, তাতে গড়ে মাঠে লোক হয়েছে ১৯,৫১১ জন। আর জামশেদপুর যে দুটো ম্যাচ খেলছে তাতে মাঠে দর্শক এসেছে মাত্র ৫৭৮১ জন। আশা করা যায়, এবারের ইস্টবেঙ্গল আর জামশেদপুর ম্যাচে গড়পরতা হিসাবটা মিললেই যুবভারতী গম গম করবে। আর রাকিপ আর সল ক্রেসপো চোট সারিয়ে ফিরলে অস্কার ব্রুজোর চিন্তা কিছুটা হলেও দূর হবে। ইস্টবেঙ্গল জনতা কিন্তু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে দলে সদ্য যোগ দেওয়া ডেনমার্কের স্ট্রাইকার অ্যান্টন সজবার্গকে নিয়ে। তিনি এই ম্যাচে মাঠে নেমে দলকে কতটা নির্ভরতা দিতে পানরে সেটা দেখার। আর তিনি যদি গোল করেন তাহলে ইস্টবেঙ্গল জনতা যে আগামী দিনে ভালো কিছু দেখার জন্য অপেক্ষা করবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

