ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রবেশের মুখে বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল এফসি। চলতি মরসুমের নবম ম্যাচে ২৮ তারিখে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে ওডিশা এফসির মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ শিবির (East Bengal vs Odisha FC)। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে ‘হোম ম্যাচ’ হলেও ম্যাচটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোয়ায়, যা দলের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মিগুয়েলের সাসপেনশন ঘিরে বিতর্ক
ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের জন্য মিডফিল্ডার মিগুয়েলের নির্বাসন। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে লাল কার্ড পাওয়ার পর তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ অস্কার ব্রুজ়ো।
তিনি বলেন, ১০ জন নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলার পরও অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁর মতে, “এই ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরেও অনেক সময় এত কঠোর শাস্তি দেওয়া হয় না। ছোট লিগে তিন ম্যাচের মতো শাস্তি অত্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।”
চোট ও অনিশ্চয়তায় দল
মিগুয়েলের অনুপস্থিতির পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে চোট সমস্যা। আগেই মরসুম থেকে ছিটকে গিয়েছেন নওরেম মহেশ সিং। এছাড়া আনোয়ার আলি ও মহম্মদ রশিদের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে সংশয়। তবে কোচ ব্রুজ়ো আত্মবিশ্বাসী, “দলের শক্তি হল সম্মিলিত লড়াই। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও বাকিরা সেই ঘাটতি পূরণ করবে।”
ক্রিকেটের পিচ ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে, তারপর দলবদল! ভজ্জি-সিধু-কীর্তি আজাদদের রাজনৈতিক ইনিংস
সয়বার্গের আত্মবিশ্বাস
বেঙ্গালুরু ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করা আন্তন সয়বার্গ এখন আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমি প্রথম একাদশে খেলি বা বেঞ্চ থেকে নামি—দলের জয়ের জন্যই খেলব। সামনে কী আসছে সেটাই আমার ফোকাস।” এশিয়ান ফুটবলে মানিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুরুতে সমস্যা হলেও এখন তিনি অনেকটাই স্বচ্ছন্দ।
ওডিশা ম্যাচই টার্নিং পয়েন্ট
কোচ ব্রুজ়ো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওডিশা ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের জন্য মরসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি।
“এই ম্যাচ জিততে পারলে আমরা ১৮ পয়েন্টে পৌঁছব এবং তারপর মুম্বই সিটি, পাঞ্জাব এফসি ও মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলো আমাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে,” বলেন তিনি।
শক্ত প্রতিপক্ষ ওডিশা
ওডিশা এফসিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল। কোচের মতে, তারা একটি সংগঠিত ও বিপজ্জনক দল, যারা কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে ওডিশাও শেষ ম্যাচে হারার পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া, ফলে ম্যাচটি হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
কৌশল ও মানসিকতার গুরুত্ব
ম্যাচে কৌশলগত দিকেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রুজ়ো। প্রয়োজনে একাধিক স্ট্রাইকার নামানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর, যাতে কোনও উস্কানিতে পড়ে দল আবার সমস্যায় না পড়ে।
শীর্ষে ওঠার লড়াই
ISL-এ এখন একাধিক দল শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে রয়েছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ‘ফাইনাল’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষিতে ইস্টবেঙ্গলের জন্য ওডিশা ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং পুরো মরসুমের ভাগ্য নির্ধারণের বড় সুযোগ।
সব মিলিয়ে, চোট, সাসপেনশন ও বিতর্কের মধ্যেই কঠিন মানসিক পরীক্ষার সামনে লাল-হলুদ। ২৮ তারিখের ম্যাচে তারা কীভাবে নিজেদের সামলে ওঠে, সেটাই এখন দেখার।

