Site icon Hindustan News Point

৭ গোল হজমের দুঃস্বপ্ন থেকে ইতিহাস, এলয় রুমের হাতেই কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ রূপকথা

Eloy Room

ফুটবল বিশ্বকাপে সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন গোলদাতারা। কিন্তু কখনও কখনও একজন গোলরক্ষকও পুরো বিশ্বের নজর কেড়ে নিতে পারেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ঠিক সেটাই করলেন কুরাসাওয়ের অভিজ্ঞ গোলকিপার (Eloy Room) এলয় রুম। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে তাঁর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ বাঁচায়নি, ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিয়েছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওকে।

ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে অবস্থিত কুরাসাও আয়তনে মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যাও দুই লক্ষের কম। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এমন একটি দেশের নাম সচরাচর শোনা যায় না। কিন্তু ২১ জুন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের পয়েন্ট অর্জন করেছে কুরাসাও। আর সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় নায়ক (Eloy Room) এলয় রুম।

৩৭ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক পুরো ম্যাচে করেছেন অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ডধারী মার্কিন গোলকিপার টিম হাওয়ার্ডের (২০১৪ সালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ১৬ সেভ) রেকর্ড স্পর্শ করতে তিনি পিছিয়ে ছিলেন মাত্র একটি সেভ। যদিও ৯০ মিনিটের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সেভ করার দিক থেকে তিনিই রইলেন শীর্ষে। টিম হাওয়ার্ড ১৬টা সেভ করেছিলেন ৯০ মিনিটেরও বেশি সময়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইকুয়েডর আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যায়। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এননার ভ্যালেন্সিয়া, গনজালো প্লাতা কিংবা মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রক মোইসেস কাইসেদো— সবাই সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান (Eloy Room) রুম। কখনও কাছ থেকে নেওয়া শট রুখেছেন, কখনও উড়ন্ত ডাইভে বল ঠেলে দিয়েছেন ক্রসবারের উপর দিয়ে, আবার কখনও চাপের মুখে নিরাপদে বল কুড়িয়ে নিয়েছেন।

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ছয় দিন আগে জার্মানির বিরুদ্ধে ৭ গোল হজম করেছিল কুরাসাও। সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন (Eloy Room) রুম। কিন্তু হতাশার বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন লড়াইয়ের পথ। আর সেই লড়াই তাঁকে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

নেদারল্যান্ডসের নাইমেখেনে জন্ম হলেও রুম আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর পারিবারিক শিকড়ের দেশ কুরাসাওকে। একসময় নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-২০ দলের জার্সিও পরেছেন। পরে কিংবদন্তি প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের আহ্বানে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর এবং দেশের ফুটবল ইতিহাস।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের USL চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব মায়ামি FC-তে খেলেন রুম। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ম্যাচসংখ্যা ৭২, যা দেশের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বাধিক।

ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে সেই ১৫টি সেভের রাত শুধু একটি ড্র এনে দেয়নি। এনে দিয়েছে স্বপ্ন দেখার সাহস। ছোট্ট কুরাসাওকে বিশ্বকাপের মানচিত্রে তুলে ধরেছেন এক গোলরক্ষক। আর সেই কারণেই আজ (Eloy Room) এলয় রুম শুধুই একজন ফুটবলার নন, তিনি কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপের রূপকথার নায়ক।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরতে পারেন ইঙ্গিত আন্সেলত্তির


Exit mobile version