Site icon Hindustan News Point

হ্যারি কেন বনাম মেক্সিকোর দুর্ভেদ্য প্রাচীর, কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপছে মেক্সিকো সিটি

England vs Mexico

একদিকে চার ম্যাচে একটিও গোল না খাওয়া মেক্সিকো, অন্যদিকে হ্যারি কেনের ঝড়ে উজ্জীবিত ইংল্যান্ড। (England vs Mexico) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি দুই ভিন্ন দর্শনের দুই দল—একদিকে আক্রমণ, অন্যদিকে নিখুঁত রক্ষণ।

বিশ্বকাপের নকআউটের পর্ব শেষে এবার থেকেই শুরু হচ্ছে আসল পরীক্ষা, আসল চাপ, আসল লড়াই। কারণ শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই মানেই ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতি। ট্রফির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আর কোনও ভুলের সুযোগ নেই। আর সেই কারণেই সোমবারের ভোর সাড়ে পাঁচটার (England vs Mexico) ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শন, দুই ভিন্ন মানসিকতা এবং দুই ভিন্ন যাত্রাপথের সংঘর্ষ।

মেক্সিকো সিটির দুর্গে ইংল্যান্ডের কঠিন পরীক্ষা

কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বাস্তবটা কিন্তু মোটেই এত সহজ নয়। কারণ (England vs Mexico) ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেক্সিকো সিটিতে, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকো গত ২০১৩ সালের পর থেকে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারেনি। নিজেদের সমর্থকদের সামনে ‘এল ত্রি’ যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা ইতিমধ্যেই এই বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে।

অন্যদিকে, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার বিচারে ইংল্যান্ড অনেকটাই এগিয়ে। গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবার তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। ফলে নকআউট ফুটবলের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা তুচেলের দল ভালোভাবেই জানে।

রক্ষণ বনাম আক্রমণ: দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই

(England vs Mexico) এই বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। টানা চারটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে তারা। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকই তাদের প্রধান অস্ত্র।

তবে ইংল্যান্ড শুধু রক্ষণনির্ভর দল নয়। এই বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের অসাধারণ ফর্ম তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাঁচ গোল করে তিনি বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম দাবিদার। মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যামের সৃজনশীলতা এবং উইংয়ে অ্যান্থনি গর্ডনের গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল ইংল্যান্ডকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।

হাল্যান্ডের ভাইকিং ঝড় থামাতে পারবেন ভিনিসিয়াসরা? ব্রাজিলের সামনে ইতিহাসের অভিশাপ

হ্যারি কেনের ফর্ম ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র

নকআউট পর্বে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের গুরুত্ব সবসময়ই বেশি। আর সেই জায়গায় ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হ্যারি কেন। শুধু গোল করাই নয়, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই অধিনায়কের ভূমিকা পালন করছেন তিনি।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর আক্রমণভাগে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাউল হিমিনেজ, সৃজনশীল রবার্তো আলভারাডো এবং দ্রুতগতির জুলিয়ান কিনোনেস। বড় ম্যাচে এঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মেক্সিকোর অন্যতম বড় সম্পদ।

পরিসংখ্যান যা বলছে

এই বিশ্বকাপে মেক্সিকো এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি। অপরদিকে ইংল্যান্ড চার ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল খেয়েছে। অর্থাৎ টুর্নামেন্টের সেরা দুই রক্ষণভাগের মুখোমুখি লড়াই দেখতে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। নকআউটের আগের ম্যাচে কঙ্গোকে হারাতে ইংল্যান্ডকে কিন্তু যথেষ্ট লড়াই করতে হয়েছে, যা তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। অন্যদিকে মেক্সিকো নিঃশব্দে নিজেদেরকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে কারা এগিয়ে?

(England vs Mexico) ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের দাপট স্পষ্ট।

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। শেষবার ২০১০ সালে দুই দলের সাক্ষাতে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। তবে ইতিহাস কখনও বর্তমানের নিশ্চয়তা দেয় না, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ মেক্সিকো নিজেদের মাঠে খেলছে।

কোচদের কৌশলের লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ

ইংল্যান্ড বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য পরিচিত। কীভাবে নকআউট ম্যাচের চাপ সামলাতে হয় তা তারা জানে। অন্যদিকে মেক্সিকোর কোচিং স্টাফ এই বিশ্বকাপে দলের রক্ষণাত্মক সংগঠন ও শৃঙ্খলাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোকেও ভোগাতে পারে।

নজরে থাকবেন যাঁরা

ইংল্যান্ড: হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন
মেক্সিকো: রাউল হিমেনেজ, রবার্তো আলভারাডো, জুলিয়ান কিনোনেস

ইংল্যান্ড নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইবে, তেমনই স্বাগতিক মেক্সিকোও প্রমাণ করতে চাইবে যে তারা শুধু আবেগ বা ঘরের মাঠের সমর্থনে নয়, নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বের যেকোনও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।

হাল্যান্ডের ভাইকিং ঝড় থামাতে পারবেন ভিনিসিয়াসরা? ব্রাজিলের সামনে ইতিহাসের অভিশাপ


Exit mobile version