২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আফ্রিকান দেশগুলির পারফরমেন্স ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়ল। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১০টি আফ্রিকান দেশের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠে কার্যত এক নজির গড়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও এত সংখ্যক আফ্রিকান দল একসঙ্গে নকআউটে পৌঁছতে পারেনি।
এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিশ্চিত হয় গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে। ডিআর কঙ্গো উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠে। অন্যদিকে আলজেরিয়া অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে নাটকীয় ড্র করে রাউন্ড অফ ৩২-এ তাদের জায়গা নিশ্চিত করে। এই দুই ফলাফলের পরই আফ্রিকার মোট ৯টি দল নকআউটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয়। (FIFA WORLD CUP 2026)
নকআউটে ওঠা আফ্রিকার দেশগুলির তালিকায় রয়েছে- মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, কেপ ভার্দে, ঘানা, ডিআর কঙ্গো এবং আলজেরিয়া। একমাত্র তিউনিসিয়াই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় আফ্রিকা থেকে মোট ১০টি দেশ সুযোগ পেয়েছিল। আর সেই সুযোগকেই বিফলে যেতে দেননি তারা। বরং সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকার দলগুলি প্রমাণ করেছে, তারা এখন আর শুধু অংশগ্রহণ করতে আসে না, বড় মঞ্চে লড়াই করে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে। (FIFA WORLD CUP 2026)
ফিফা বিশ্বকাপে হারের বড় শাস্তি, বাতিল উরুগুয়ে ফুটবলারদের চার্টার্ড ফ্লাইট
তবে এই ৯ দলের মধ্যে ডিআর কঙ্গোর সাফল্য বিশেষ করে উল্লেখ করার মতো। ১৯৭৪ সালে জায়ারের নামে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেললেও তখন তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। তারপর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ দশক। ৫২ বছর পর আবার সেই দেশই ডিআর কঙ্গো নামে নতুন পরিচয়ে ফের একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে এবার আর হতাশা নয়, নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়ল এই দেশ। অন্যদিকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান দেশগুলির এই সাফল্য শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে বদলে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। আগামী নকআউট পর্বে এই দলগুলি কতটা এগোতে পারে এবং ঠিক কোথায় গিয়ে শেষ করে এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের। (FIFA WORLD CUP 2026)

