Site icon Hindustan News Point

FIFA World Cup: ড্রাগ লর্ডের মৃত্যুতে উত্তাল মেক্সিকো, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা, সরে যাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ?

fifa world cup mexico

মেক্সিকোয় সেনা অভিযানে কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগেরা সেরভান্তেস ওরফে ‘এল মেঞ্চো’র মৃত্যুর পর দেশজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জালিস্কো প্রদেশের গুয়াদালাহারা ও আশপাশে হিংসা, ভাঙচুর, আগুন লাগানোর ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এ অবস্থায় ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ আদৌ মেক্সিকোয় হবে কি না তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

মেক্সিকোর সেনাবাহিনী তাপালপা অঞ্চলে বিশেষ অভিযানে এল মেঞ্চোকে ঘিরে ফেলে। গুলির লড়াইয়ে তিনি নিহত হন। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ঘটনাকে বড় সাফল্য বললেও, তাঁর নেতৃত্বাধীন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের সদস্যরা বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালায়। রাস্তায় গাড়ি, বাস, দোকানপাট ও ব্যাঙ্কে আগুন লাগানো হয়। এমনকি বিমানবন্দর এলাকাতেও ভাঙচুরের খবর সামনে এসেছে। এল মেঞ্চোর মাথার দাম ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার, এবং মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচো নিহত, প্রতিশোধে দেশজুড়ে অস্থিরতা

এই অশান্তির প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াক্ষেত্রেও। মেক্সিকান লিগের একাধিক ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে, যেমন কোয়েরেতারো বনাম হুয়ারেজ এবং মহিলাদের শিভাস বনাম ক্লাব আমেরিকা ম্যাচ। একটি ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভিতর গুলির ঘটনাও সামনে এসেছে। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর প্রীতি ম্যাচ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও মেক্সিকো ওপেন টেনিস আপাতত চালু রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১২ জুন থেকে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেতে ম্যাচ আয়োজনের কথা। গুয়াদালাহারার ৪৮ হাজার দর্শকাসনের এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় স্পেন বনাম উরুগুয়ে-সহ একাধিক হাইপ্রোফাইল ম্যাচ নির্ধারিত। কিন্তু বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে—ম্যাচ কি অন্য দেশে সরানো হবে? যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের আগে মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


Exit mobile version