লাল–হলুদের ১৭ নম্বর জার্সির এক উজ্জ্বল অধ্যায় নিভে গেল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য রাইট ব্যাক ইলিয়াস পাশা। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা ফুটবল হারাল এক নীরব নায়ককে, যাঁর অবদান মাঠের বাইরেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯৮৯ সালে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে কলকাতা ময়দানে পা রাখেন ব্যাঙ্গালোরের ছেলে ইলিয়াস পাশা। রহমতুল্লাহর সঙ্গে সাদাকালো জার্সিতে এক বছর কাটানোর পর ১৯৯০ সালে যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। তারপর টানা প্রায় নয় বছর লাল–হলুদের রাইট ব্যাক হিসেবে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন। ডানদিক দিয়ে তাঁর ওভারল্যাপ, নিখুঁত ট্যাকল আর শান্ত মাথার ডিফেন্ডিং ছিল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণের মেরুদণ্ড।
১৯৯৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক হন পাশা। তাঁর নেতৃত্বেই কাপ উইনার্সে ইরাকের শক্তিশালী আল জাওরাকে ৬–২ গোলে হারায় ইস্টবেঙ্গল, জেতে নেপালের ওয়াই ওয়াই কাপ। লাল–হলুদের হয়ে ছ’বার কলকাতা লিগ, চারবার ডুরান্ড, পাঁচবার শিল্ড, একবার ফেডারেশন কাপ-সহ প্রায় সব বড় ট্রফি জয়ের শরিক ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের কলকাতা লিগ ডার্বিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে করা তাঁর গোল আজও স্মরণীয়।
সতীর্থ তরুণ দে তাঁকে স্মরণ করে বলেছেন, “পাশা ছিল একজন আদর্শ ডিফেন্ডার— ঝুঁকি নিত না, ম্যাচ রিডিং ছিল অসাধারণ।” বাংলা ও ভারতীয় দলের জার্সিও গায়ে তুলেছিলেন তিনি।
তবে খেলোয়াড়ি জীবনের পরে আর্থিক সংগ্রাম তাঁকে ব্যাঙ্গালোরের রাস্তায় অটো চালাতে বাধ্য করে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নিয়মিত তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল।
মাঠ ছাড়ার সময় নিজের ১৭ নম্বর জার্সি তুলে দিয়েছিলেন এক সমর্থক নিতাইকে— যে আজও সেই জার্সি পরে মশাল হাতে গ্যালারি দাপায়। সেই জার্সির সঙ্গেই চিরদিন বেঁচে থাকবেন ইলিয়াস পাশা।

