Site icon Hindustan News Point

Grace Hayden: ‘গ্ল্যামারাস’ বলেই ট্রোল! কটাক্ষের মুখে ম্যাথু হেডেন কন্যা

Grace Hayden

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ম্যাথু হেডেন-এর মেয়ে গ্রেস হেডেন (Grace Hayden) এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারের পরিচিত মুখ। স্টার স্পোর্টস, ফক্স স্পোর্টস কিংবা চ্যানেল ৭— অল্প বয়সেই বড় বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। কিন্তু সাফল্যের পাশাপাশি তাঁকে (Grace Hayden) নিয়মিত লড়তে হচ্ছে অন্য এক ম্যাচে — সোশ্যাল মিডিয়ার বিদ্বেষ, কটাক্ষ এবং নারী বিদ্বেষী মানসিকতার বিরুদ্ধে।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে গ্রেস যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গেই এসেছে প্রশ্ন— “তিনি কি শুধুই গ্ল্যামারের জন্য সুযোগ পান?” “খেলাধুলা নিয়ে তাঁর জ্ঞান কতটা?” এমন অসংখ্য মন্তব্য প্রায়ই দেখতে হয় তাঁকে। কারণ, এখনও বিশ্বের বহু জায়গায় ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও স্পোর্টস ব্রডকাস্টিংকে পুরুষদের ক্ষেত্র বলেই মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ফ্যাশন উইকের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাই খোলাখুলি জানালেন গ্রেস। (Grace Hayden) তাঁর কথায়, “মিডিয়া এবং খেলাধুলায় নারীদের নিয়ে আলোচনা এখন বদলাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে জনসমক্ষে থাকা মানুষদের নিয়ে মন্তব্যও অনেক বেড়েছে।”

তবে সমালোচনাকে নিজের কাজের পথে বাধা হতে দেন না তিনি। তিনি (Grace Hayden) স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য কাজ। প্রস্তুতি, পেশাদারিত্ব এবং শেখার ইচ্ছাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এই বক্তব্যের মধ্যেই যেন উঠে আসে আধুনিক কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতিদিনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। আজও বহু নারীকে নিজের দক্ষতার চেয়ে চেহারা, পোশাক বা ব্যক্তিত্ব দিয়ে বিচার করা হয় বেশি। বিশেষ করে টেলিভিশন বা মিডিয়া জগতে কাজ করা নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও প্রকট। একজন পুরুষ উপস্থাপক স্টাইলিশ পোশাক পরলে সেটাকে আত্মবিশ্বাস বলা হয়, কিন্তু একজন নারী একই কাজ করলে তাঁকে “অতিরিক্ত গ্ল্যামারাস” তকমা দেওয়া হয়।

 ইংল্যান্ড পুরুষ দলের ইতিহাসে প্রথম মহিলা কোচ, নতুন ভূমিকায় সারা টেলর: Grace Hayden: ‘গ্ল্যামারাস’ বলেই ট্রোল! কটাক্ষের মুখে ম্যাথু হেডেন কন্যা

গ্রেস সেই মানসিকতার বিরুদ্ধেই কার্যত বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আপনি একই সঙ্গে পেশাদার, প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন। ব্যক্তিগত স্টাইলকে গ্রহণ করা মানেই কাজকে কম গুরুত্ব দেওয়া নয়।” এই বক্তব্য অনেক নারীর মনের কথাই যেন তুলে ধরে। কারণ কর্মক্ষেত্রে নারীদের এখনও প্রায়শই প্রমাণ করতে হয় যে তাঁরা শুধু ‘দেখতে ভালো’ বলেই নন, নিজেদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের জোরেও জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি (Grace Hayden) আরও বলেন, টেলিভিশন এবং খেলাধুলার দুনিয়ায় কাজ করলে মানুষের মতামত আসবেই। কিন্তু তিনি নেতিবাচক দিকের বদলে ইতিবাচক বিষয়গুলোর উপরেই ফোকাস রাখতে শিখেছেন। তাঁর মতে, ফ্যাশন তাঁর কাছে শুধুই সাজ নয় বরং আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ান ফ্যাশন উইকে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাশন এমন একটা জায়গা যেখানে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করা যায়। আমি মনে করি, প্রত্যেক ইন্ডাস্ট্রিতেই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের জায়গা থাকা উচিত।”

ক্রীড়া সঞ্চালিকা হিসেবেই নয়, নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসী নারীদের প্রতীক হিসেবেও উঠে আসছেন গ্রেস হেডেন। ট্রোল, সমালোচনা কিংবা বৈষম্যের কটাক্ষ— সবকিছুর মধ্যেও তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, একজন নারী একই সঙ্গে পেশাদার এবং গ্ল্যামারাস হতে পারেন। আর সেটাই হয়তো এখনও সমাজের একাংশ সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না।

CSK-তে বড় ধাক্কা, ছিটকে গেলেন ওভারটন, বদলি প্লেয়ার কে?: Grace Hayden: ‘গ্ল্যামারাস’ বলেই ট্রোল! কটাক্ষের মুখে ম্যাথু হেডেন কন্যা
Exit mobile version