বিরাট কোহলি নিজের কাজটা করলেন, কিন্তু দলগত খেলায় একজনের পক্ষে যে দলকে জেতানো সবসময় সম্ভব নয় তা আবার প্রমাণিত হলো। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে হেরে গিয়ে ২-১ এ সিরিজ হারল টিম ইন্ডিয়া (India vs New Zealand)। যার পর ফের প্রশ্নের মুখে গৌতম গম্ভীরের স্ট্র্যাটেজি ও ভারতীয় ব্যাটিং।
প্রথমে ব্যাট করে নিউ জিল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ৩৩৭ রান। কিউই ইনিংসের ভিত গড়ে দেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। দু’জনের দুর্দান্ত শতরানে ভর করেই বড় স্কোর দাঁড় করায় নিউ জিল্যান্ড। মাঝের ওভারগুলোতে ভারতীয় বোলাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরালেও শেষের দিকে দ্রুত রান তোলে সফরকারীরা। এবার ভারত ছয়জন বোলার নিয়ে খেলতে নেমেছিল। কিন্তু কোথায় কী? ছয় জন বোলারের মধ্যে অর্শদীপ সিং ও মহম্মদ সিরাজ বাদে আর কেউ দাগ কাটতে পারলেন না। বোলারদের বড় রান আটকাতে না পারা ও ব্যাটিংয়ে গভীরতা না থাকার খেসারত দিল টিম ইন্ডিয়া।
BELIEVE! 🇮🇳#TeamIndia #INDvNZ #3rdODI @IDFCfirstbank pic.twitter.com/iDhHO2Bg7z
— BCCI (@BCCI) January 18, 2026
নিউ জিল্যান্ডের ৩৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। রোহিত শর্মা এই ম্যাচেও ব্যর্থ। করলেন মাত্র ১১ রান। ৩৩৮ রান তাড়া করার জন্য যেই ভালো শুরু দরকার ছিল সেটা রোহিত ও গিল জুটি দিতে পারল না। রোহিত ১১ রান করে ফেরার পর গিল করলেন ২৩।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেই একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান বিরাট কোহলি। চেনা ছন্দে ব্যাটিং করে তিনি পূর্ণ করেন ওয়ানডে কেরিয়ারের ৫৪তম শতরান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর ৮৫তম সেঞ্চুরি। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি কোহলির সপ্তম শতরান—কিউইদের বিরুদ্ধে যে কোনও ব্যাটারের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
কোহলির ইনিংস ভারতের জয়ের আশা জিইয়ে রাখলেও একার পক্ষে ম্যাচ টেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। নিজের অভিষেক সিরিজে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম হাফসেঞ্চুরি করে ৫৩ রান করে ইনিংস শেষ করেন তিনি। পাশাপাশি হর্ষিত রানাও গুরুত্বপূর্ণ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে এই দু’জনের ব্যাটে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ভারত। তাৎপর্যের বিষয় হলো টিম ইন্ডিয়ায় যাদের নামের পাশে ব্যাটার লেখা তারা কেউই জ্বলে উঠতে পারলেন না। বিরাটের পর শ্রেয়স আইয়ার (৩), কেএল রাহুল (১) ব্যর্থ হলেন। রবীন্দ্র জাডেজার অলরাউন্ডার হলেও পারলেন না কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে টানতে। করলেন মাত্র ১২ রান। হর্ষিত রানার ব্যাট না চললে আরও লজ্জা অপেক্ষা করে ছিল টিম ইন্ডিয়ার জন্য।
তবে প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বাড়তে থাকায় শেষ দিকে চাপ সামলাতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলির শতরান, নীতীশ ও হর্ষিতের লড়াকু ইনিংস সত্ত্বেও লক্ষ্যের কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয় ভারতকে।
৩৩৮ রান তাড়া করতে গিয়ে ভারত করল মাত্র ২৯৬ রান। ৪৬ ওভারে অলআউট হয়ে যায়। যার পর প্রশ্ন উঠে গেল দল নির্বাচন, ছয় বোলার খেলানো নিয়ে। ঘরের মাঠেও ব্যর্থ হলে বিদেশে মাঠে ছবিটা কী হবে সেই প্রশ্নটা আরও কড়া হলো।
এই ম্যাচে আবারও প্রমাণ হল, এক জনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়—বড় রান তাড়ায় প্রয়োজন দলগত প্রচেষ্টা।
Harshit Rana departs after a vital knock of 52 runs.
— BCCI (@BCCI) January 18, 2026
Live – https://t.co/Zm5KbOqvpl #TeamIndia #INDvNZ #3rdODI @IDFCfirstbank pic.twitter.com/cPMsOS4fGd

