আইপিএলকে ঘিরে বেআইনি বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় তথ্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের মাধ্যমে ৮ কোটিরও বেশি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। (IPL Illegal Betting )
আইপিএল চলাকালীন অবৈধ বেটিং র্যাকেট চালানোর অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে সিপ্রি বাজার থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রের খবর পেয়ে মহেন্দ্রপুরী কলোনির একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে অংশুমান (৪০) ও অভিষেক পাঠক (৩১) নামে দুই ব্যক্তিকে। (IPL Illegal Betting )
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা আইপিএল ম্যাচের উইকেট, রান, ওভারসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে অনলাইনে বাজি ধরার র্যাকেট চালাত। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ডিজিটাল কয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া বাড়ি থেকে নগদ ৫ হাজার টাকারও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত নয়টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।
সিটি এসপি প্রীতি সিং বলেন, “গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সিপ্রি বাজার থানার টিম মহেন্দ্রপুরী কলোনির ওই বাড়িতে অভিযান চালায় এবং অংশুমান (৪০) ও অভিষেক পাঠক (৩১)-কে গ্রেফতার করে।” জিজ্ঞাসাবাদে দু’জন জানিয়েছে, তারা পাথোরিয়ার বাসিন্দা রবি কুশওয়াহার সঙ্গে কাজ করছিল। এই র্যাকেটের মূল পান্ডা বলে চিহ্নিত রবি কুশওয়াহা এখনও পলাতক। পুলিশ তাকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে। (IPL Illegal Betting )
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের লেনদেন মূলত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে করা হত। ছোট ছোট অঙ্কে ভাগ করে টাকা নেওয়া ও পাঠানোর ফলে প্রথমদিকে বিষয়টি নজরে আসেনি। কিন্তু বিস্তারিত খতিয়ে দেখে জানা যায়, মোট লেনদেনের পরিমাণ ৮ কোটিরও বেশি।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডেবিট কার্ড, সিম কার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি। প্রাথমিক ফরেন্সিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলিতে বিপুল পরিমাণ বেটিং সংক্রান্ত তথ্য, গ্রাহকদের তালিকা এবং লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “নির্দিষ্ট ইনপুটের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান চালাই। ধৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, যা এই চক্রের ব্যাপকতা প্রমাণ করে। আমরা মনে করছি, এর পেছনে আরও বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে। পাশাপাশি, অন্য রাজ্যের সঙ্গেও এই চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” (IPL Illegal Betting )
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইপিএল মরশুমে এ ধরনের অবৈধ জুয়ার র্যাকেটের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। তার সাথে আইপিএল মরশুমে যাতে এই ধরনের বেআইনি বেটিং চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন : Riyan Parag: ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে ভেপিং! ক্যামেরায় ধরা পড়ে বিতর্কে রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ

