অনেক টালবাহানা, বৈঠক ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে গড়াবে নতুন মরসুম। কিন্তু মাঠে খেলা শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের শীর্ষ ফুটবল লিগ। সম্প্রচার স্বত্বের দামের ভয়াবহ পতন ISL-কে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দিয়েছে (ISL Valuation)।
আগামী মরসুমে ISL-এর সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম FanCode। একদিকে এটি লিগের সম্প্রচার চালু রাখার ক্ষেত্রে স্বস্তির খবর হলেও, আর্থিক দিক থেকে এই চুক্তি ISL ও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর জন্য বড় ধাক্কা। কারণ আগের মরসুমের তুলনায় সম্প্রচারমূল্য প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গিয়েছে।
২০২৪–২৫ মরসুমে ১৬৩টি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য জিওস্টার দিয়েছিল প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা। সেই হিসেবে প্রতি ম্যাচের মূল্য দাঁড়িয়েছিল আনুমানিক ১.৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন মরসুমে FanCode মাত্র ৮.৬২ কোটি টাকায় ৯১টি ম্যাচ সম্প্রচার করবে। ফলে প্রতি ম্যাচের দাম নেমে এসেছে প্রায় ৯.৫ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ ম্যাচপিছু আয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি পতন। এই চুক্তির ফলে AIFF-এর সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৬৬.৩৮ কোটি টাকা।
এই পতনের ফলে ISL-কে টপকে গিয়েছে দেশের একাধিক আঞ্চলিক লিগ। কেরালা সুপার লিগের সম্প্রচার স্বত্ব পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেখানে প্রতি মরসুমে ৯১টি ম্যাচ ধরে ম্যাচপিছু আয় প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। তুলনায় ISL-এর ম্যাচপিছু মূল্য এখন তার অর্ধেকেরও কম।
নরম বিছানায় শুয়ে উপভোগ করুন স্টেডিয়ামের LIVE ম্যাচ, বিশ্বে নজির গড়তে চলেছে ভারত
ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। আইপিএলের একটি ম্যাচের সম্প্রচারমূল্য প্রায় ১৩১ কোটি টাকা, যেখানে ISL-এর একটি ম্যাচের দাম মাত্র ৯.৫ লক্ষ টাকা। হিসেব বলছে, আইপিএলের একটি ম্যাচ থেকে যে আয় হয়, তাতে ISL-এর প্রায় ১৪টি মরসুমের সব ম্যাচ সম্প্রচার করা সম্ভব।
তবে আশার জায়গা একটাই—এই সম্প্রচার চুক্তি আপাতত শুধুমাত্র এক মরসুমের জন্য। AIFF ও সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, যদি এই মরসুম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং দর্শকসংখ্যা বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে ISL-এর বাজারদর আবার বাড়তে পারে। যদিও আইপিএলের ধারেকাছে পৌঁছনো যে এখনই সম্ভব নয়, তা মেনে নিচ্ছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও।

