Site icon Hindustan News Point

Italy World Cup: ১২ বছর বিশ্বকাপের বাইরে, ‘কী আশায় যুবরা ফুটবল খেলবে?’ চিন্তায় ইতালি

Italy World Cup

কুশল চক্রবর্তী
সেটা ছিল ২০১৭ সালের কথা। বিশ্বকাপের ইউরোপিয়ান যোগ্যতা নির্ণায়ক খেলার এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে ২০১৮-র রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল চারবারের ফুটবলের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি (Italy World Cup)। বিশ্ব ফুটবলের খবর যারা রাখে তাঁরা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ, ১৯৫৮ সাল থেকে ফুটবল বিশ্বকাপের মুলপর্বে পৌঁছনো দেশটার এমন অবস্থা হতে পারে, একসময় তা ভাবাই যেত না। সেবার দলের ব্যর্থতা কাঁধে নিয়ে সেই ইতালি দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল আন্দ্রে বারজাগি, ড্যানিয়েল ডি রসি, আর অধিনায়ক জিনালুগি বুফো। সেই বুফোই আজ যিনি এই ২০২৬ ইতালি বিশ্বকাপ দলের পর্দার অন্তরালের অন্যতম প্রধান চরিত্র। তিনি বলছেন, “জুন অবধি তাঁর সঙ্গে ইতালি ফুটবল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি আছে, তারপর ভাবা যাবে কী করব।” ২০১৮ সালের পরও ২০২২ আর ২০২৬ সালেও ইতালি পৌঁছতে পারল না বিশ্বকাপের মূল পর্বে।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের রাস্তা বন্ধ হয়েছিল আরেকটা ইউরোপিয়ান যোগ্যতা নির্ণায়ক ম্যাচে নর্থ ম্যাসিডোনিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে। যে রবার্তো মাঞ্চিনি এই ইতালি দলকে ২০২০ সালে (খেলা হয়েছিল ২০২১ সালে) ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তাঁকেই ফিরতে হয়েছিল ফাঁকা হাতে। ২০২৬ সালেও ইতালি পারল না যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের মুলপর্বে পৌঁছতে। এবার বাধা হয়ে দাঁড়াল বসনিয়া ও হার্জেগোবনিয়া। এই ১২ বছরের ইতালিয় ফুটবলের অন্দর মহলে ঝুঁকে দেখলে হয়ত দেখা যাবে, তারা একবারে খারাপ খেলছে না। কারণ তাদের ক্লাব লেভেলের ফুটবলে এসি মিলান বা ইন্টার মিলান বা আটলান্টা ইউরোপীয় ক্লাব ভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোতে সেমি ফাইনাল অবধি পৌঁছচ্ছে। এমনকী U23 ফুটবলেও তাঁরা ভালোই খেলছে। তবে কেন পারছে না বিশ্বকাপে এসে?

আশা জাগিয়েও বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছতে পারল না ইতালি

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালি দলের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে, গোল করার মতো লোকের অভাব। ইতালি যখন বিশ্বকাপ মাতাত তখন দলে থাকতেন পাওল রসি, রবার্টও বাজ্জিও, আলেহান্দ্রো দেল পিয়েরও, ফিলিপ ইনযাগি, ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি, টোটো সিলাচির মতো গোল গেটাররা। তাই ২০২৬ সালের দলে গিয়ানলুইগি দোনারুমা, সান্ড্রো তোনালি, নিকলও বারেলা, এলসেন্ড্র বাস্তোনির মতো খেলোয়াড় থাকলেও, তাদের দলে হাফ চান্সে গোল করার লোকের এখনও অভাব।

অন্য দিকে ইউরোপিয়ান যোগ্যতা নির্ণায়ক খেলাগুলোও খুব বেশী প্রতিযোগিতায় ভরা। একটা দুটো ম্যাচ ভালো না খেললেই সেই দলকে মুশকিলে পড়তে হয়। এখানেও পিছিয়ে পড়ছে ইতালি। এবারের অবস্থাটা দেখুন, ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর মলদোভাকে ২-০ গোলে হারায় ইতালি, ঠিক তার পরের ম্যাচে নভেম্বরের ১৭ তারিখ নরওয়ের কাছে হেরে গেল ৪-১ গোলে। এই যে ইতালির খেলায় ধারবাহিকতার অভাব, সেটা তাদের দলকে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে।

আলেহান্দ্রো দেল পিয়েরো

যথারীতি ইতালির সংবাদ মাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা ইতালি ফুটবল দলের এই ব্যর্থতাকে ফুটবল পরিচলন কর্তৃপক্ষের অপদার্থতা বলে তাদের সরে দাঁড়াতে বলেছে। ইতালির ফুটবলের সর্বময় কর্তা গাব্রিয়েল গ্রাভিয়ানাকে এখনই পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে কোচ জেনারন গাত্তুসকে সরিয়ে দিতে বললেও তিনি জানিয়েছেন, তিনি এখনও চুক্তিবদ্ধ কোচ। তিনিই চালাবেন দল। তবে একটা ব্যাপার বলা যেতে পারে আজ থেকে ১৪ বছর আগে ইতালির ফুটবলের যে গ্ল্যামার ছিল তা এখন নেই। বলতে গেলে ক্লাব ফুটবলে এখন স্পেনের ক্লাবগুলোরই রমরমা। ইতালির পত্রিকাগুলো দুঃখ করে লিখেছে, “২০৩০-এর আগে আমাদের দেশের যুবাদের আর দেশের ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে দেখার আশা নেই। কী আশায় তাঁরা ফুটবল খেলবে সেটাই এখন চিন্তার”।


Exit mobile version