Site icon Hindustan News Point

বোনকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই বিশ্বকাপের নায়ক, চোখে জল আনবে আইভরি কোস্টের তারকার গল্প

Yan Diomande

বিশ্বকাপ শুধু গোল, জয়-পরাজয় বা ট্রফির গল্প নয়। কখনও কখনও এই মঞ্চ হয়ে ওঠে জীবনের কঠিনতম লড়াই জিতে ওঠার কাহিনির সাক্ষী। আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার (Yan Diomande) ইয়ান দিয়োমান্দের গল্পটা ঠিক তেমনই—যেখানে সাফল্যের আলোকে ছাপিয়ে যায় ব্যক্তিগত বেদনা, আর ফুটবল হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের সঙ্গে নীরব কথোপকথনের মাধ্যম।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন (Yan Diomande) দিয়োমান্দে। শনিবার টরন্টোয় জার্মানির বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর ব্যক্তিগত সংগ্রামের ইতিহাস।

গত বছর এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারান দিয়োমান্দের ১৫ বছরের ছোট বোন রোকসান। একটি পার্টিতে অপরিচিত এক ব্যক্তির দেওয়া পানীয় পান করার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তার। সেই শোক এখনও তাড়া করে বেড়ায় তরুণ ফুটবলারকে।

সম্প্রতি ‘দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত আবেগঘন একটি চিঠিতে বোনকে উদ্দেশ করে (Yan Diomande) দিয়োমান্দে লিখেছেন, “ফুটবল মাঠই এখন একমাত্র জায়গা যেখানে আমি নিজেকে ঘরের মতো অনুভব করি। সেখানেই তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারি। শুধু ইচ্ছে করে, তুমি যদি আজ বেঁচে থাকতে, তাহলে বলতে পারতাম—আমরা পেরেছি।”

(Yan Diomande) দিয়োমান্দে এখনও বুঝে উঠতে পারেন না কেন এমন ঘটনা ঘটেছিল। বোনকে হারানোর যন্ত্রণা আজও তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। তাঁর আবেগঘন স্বীকারোক্তি, “আমি কখনও কোনও উত্তর পাইনি। কেন এমন হলো, সেটাও জানি না। হয়তো হিংসা ছিল, হয়তো আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটেই থাকে। কখনও মনে হয়, আমি যদি ওকে রক্ষা করতে পারতাম!”

আরও পড়ুন :- বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের বল নিয়ে মেসির বিশেষ পরিকল্পনা, স্থান পাচ্ছে বার্সেলোনার বাড়িতে

বোনকে লেখা চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, “তোমাকে শেষবার দেখার পর থেকে অনেক কিছু বদলে গেছে। এত কিছু ঘটেছে যে, কখনও কখনও আমিও বিশ্বাস করতে পারি না। তুমি থাকলে হয়তো আরও বেশি খুশি হতে।”

এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। আফ্রিকা ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি স্পোর্টস হাইস্কুলে পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর মেজর লিগ সকারের (MLS) ক্লাব শার্লট এফসি ও কলোরাডো র‌্যাপিডসের ট্রায়ালেও অংশ নেন। কিন্তু চুক্তি হয়নি। অনেকেই হয়তো সেখানেই থেমে যেতেন। দিয়োমান্দে থামেননি।

ইউরোপে এসে ট্রায়াল দিয়েছেন চেলসি, ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথ ও অলিম্পিয়াকোসের মতো ক্লাবে। অবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্পেনের লেগানেসে সুযোগ পান। মাত্র সাত মাস পরই তাঁকে দলে ভিড়িয়ে নেয় জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ। প্রথম বুন্দেসলিগা মরশুমেই ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলির নজর কেড়েছেন তিনি।

জার্মানিতে যোগ দেওয়ার পর (Yan Diomande) তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে। তাঁর ভাষায়, “জার্মানিতে জীবন মানেই কাজ। এখানে শুধু কাজ, কাজ আর কাজ। এই পরিবেশ আমাকে শৃঙ্খলা শিখিয়েছে। স্পেনে জীবনটা একটু বেশি আরামদায়ক ছিল, কিন্তু জার্মানিতে এসে বুঝেছি সফল হতে হলে প্রতিদিন নিজেকে আরও ভালো করতে হয়।”

বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর লিভারপুল ও প্যারিস সাঁ-জার্মাঁর মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলির আগ্রহের খবর শোনা গেলেও মাটিতেই পা রাখতে চান আইভরি কোস্টের এই তরুণ তারকা।

(Yan Diomande) তাঁর কথায়, “আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে পছন্দ করি না। আমি ধাপে ধাপে এগোতে চাই। প্রতিদিন আমার নতুন স্বপ্ন থাকে। অবশ্যই বিশ্বের সেরাদের একজন হতে চাই, কিন্তু সেটা ধীরে ধীরে, নিজের ছন্দে।”

এই বিশ্বকাপে তাই ইয়ান দিয়োমান্দে শুধু আইভরি কোস্টের আক্রমণের অন্যতম ভরসা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন হার না মানা মানসিকতার এক অনুপ্রেরণামূলক প্রতীক। তাঁর গল্প শুধু একজন ফুটবলারের নয় বরং হার না মানা এক মানুষের গল্প। বোনের স্মৃতি বুকে নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নপূরণের পথে। ব্যক্তিগত শোক, ব্যর্থতা আর সংগ্রামকে শক্তিতে পরিণত করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন (Yan Diomande) ইয়ান দিয়োমান্দে যা আজ বিশ্বের কোটি ফুটবলপ্রেমীকে অনুপ্রাণিত করছে।

আরও পড়ুন :- টানা ১০ ম্যাচে গোল নেই! বিশ্বকাপে রোনাল্দোর ফর্ম নিয়ে বাড়ছে চিন্তা


Exit mobile version