Site icon Hindustan News Point

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার, বিশ্বকাপে ফের নজর কাড়ল জাপানের সমর্থকেরা

Japan Fans Cleanliness

বিশ্বকাপের মঞ্চে নাটকীয় ড্র করে মাঠে লড়াইয়ের নজির গড়েছে জাপান। কিন্তু ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে তাদের সমর্থকেরা যা করলেন, তা আবারও বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিল। (Japan Fans Cleanliness) ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিষ্কার করে ‘সামুরাই ব্লু’ সমর্থকেরা দেখালেন, ফুটবল শুধু খেলার নাম নয়, এটি সংস্কৃতি ও দায়িত্ববোধেরও প্রতীক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ২-২ ড্রয়ের পর আবারও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসার ঝড় তুললেন জাপানের সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর (Japan Fans Cleanliness) অধিকাংশ দর্শক যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন জাপানি সমর্থকদের একাংশকে দেখা যায় গ্যালারিতে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য আবর্জনা কুড়িয়ে পরিষ্কার করতে।

ডালাস স্টেডিয়ামের (Japan Fans Cleanliness) সেই ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা জাপানি সমর্থকদের এই আচরণের প্রশংসা করেন। অনেকেই একে ‘বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলির একটি’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে জাপানের সমর্থকদের কাছে এটি কোনও নতুন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিজেদের আসন ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করে যাওয়ার জন্য পরিচিত তারা। জাপানি সমাজে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের যে মূল্যবোধ রয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যায় এই আচরণে।

(Japan Fans Cleanliness) জাপানে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষ ও স্কুল পরিষ্কার করার শিক্ষা দেওয়া হয়। ফলে জনসমাগমের স্থানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা তাদের সংস্কৃতির একটি স্বাভাবিক অংশ। সেই মানসিকতাই ফুটবল স্টেডিয়ামেও বহন করে নিয়ে আসেন সমর্থকেরা।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও জাপানি সমর্থকদের একই দৃশ্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল (Japan Fans Cleanliness)। জার্মানির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ২-১ জয়ের পর উচ্ছ্বাস উদ্‌যাপন করলেও, স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে নিজেদের গ্যালারি পরিষ্কার করতে ভোলেননি তারা। এমনকি যে ম্যাচে জাপান খেলেনি, সেখানেও তাদের সমর্থকদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।

এবারও মাঠের বাইরের সেই ইতিবাচক বার্তা বিশ্ব জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ম্যাচটিও ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। নেদারল্যান্ডসের হয়ে গোল করেন ভার্জিল ভান ডাইক ও ক্রিসেন্সিও সামারভিল। তবে দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জাপান। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ডাইচি কামাদা হেড করে সমতা ফেরান এবং দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন।

গ্রুপ পর্বের শুরুতেই এই ড্র জাপানের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি বিশ্বের কাছে আরও একবার উদাহরণ হয়ে রইল তাদের সমর্থকদের আচরণ।

ফুটবল মাঠে জয়-পরাজয় আসে যায়। কিন্তু খেলা শেষে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের যে বার্তা জাপানের সমর্থকেরা দিয়ে চলেছেন, সেটিই তাদের আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অঙ্গনে।

দেড় লাখের দেশকে ৭ গোল দিয়ে ব্রাজিলের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি, হেরেও মন জিতল কুরাসাও


Exit mobile version