ক্রিকেট মাঠে (Kane Williamson) তাঁর ব্যাট কথা বলত শান্তভাবে, কিন্তু সেই ব্যাটের শব্দই বছরের পর বছর প্রতিপক্ষের জন্য ছিল আতঙ্কের কারণ। কোনও বিতর্ক নয়, কোনও নাটকীয়তা নয়—নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন নিউ জিল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার (Kane Williamson) কেন উইলিয়ামসন। আর সেই ঘোষণায় আবেগে ভাসছে বিশ্ব ক্রিকেট।
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই ক্রিকেট দুনিয়ায় নেমে এল এক আবেগঘন মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন নিউ জিল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার কেন উইলিয়ামসন। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্ত থেকেই তিনি প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অর্থাৎ, কোনও বিদায়ী ম্যাচ বা বিশেষ সংবর্ধনা ছাড়াই তিনি শেষ করলেন তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার।
বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলছে নিউ জিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম ম্যাচে লর্ডসে খেলেছিলেন উইলিয়ামসন। সেই ম্যাচে হারের পর ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে কিউয়িরা। কিন্তু সেটিই হয়ে রইল (Kane Williamson) তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফলে ১৬ বছর ৩৭৮ দিনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানলেন তিনি এক পরাজয়ের মধ্য দিয়েই।
অবসরের ঘোষণা করতে গিয়ে আবেগঘন বার্তায় (Kane Williamson) উইলিয়ামসন বলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছিলাম। গত কয়েকদিনে বুঝেছি, এটাই সঠিক সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে পারা আমার কাছে গর্বের।”
বিশ্বকাপের আগে অনিশ্চয়তা! গম্ভীরকে এড়িয়ে BCCI-র দ্বারস্থ সিনিয়র ক্রিকেটাররা
২০০৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল উইলিয়ামসনের। সেই অভিষেক ম্যাচেই করেছিলেন দুর্দান্ত শতরান। পরবর্তীতে একদিনের ক্রিকেটেও ভারতের বিরুদ্ধেই অভিষেক হয় তাঁর। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন নিউ জ়িল্যান্ড ক্রিকেটের মুখ, ভরসা এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।
পরিসংখ্যান বলছে, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডের জার্সিতে তিনি করেছেন ১৯,৩৪৬ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রয়েছে ৪৮টি শতরান। টেস্ট ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৯,৫১৫ রান। গড় এবং ধারাবাহিকতার বিচারে তিনি আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটার। টেস্টে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৩টি শতরান এবং ৩৮টি অর্ধশতরান।
একদিনের ক্রিকেটেও তাঁর অবদান অসামান্য। ১৭৫টি ODI ম্যাচে করেছেন ৭,২৫৬ রান। বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের হাল ধরেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ছিলেন নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অসংখ্য ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন তিনি, যা আজও নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
শুধু ব্যাটার হিসেবেই নয়, অধিনায়ক হিসেবেও অনন্য ছিলেন (Kane Williamson) কেন উইলিয়ামসন। তিনি ৪০টি টেস্ট, ৯১টি ODI এবং ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে। তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল কিউয়ি দল। শান্ত, স্থির এবং কৌশলী নেতৃত্বের জন্য তিনি ছিলেন সতীর্থদের কাছে অনুপ্রেরণা।
নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার বলেন, ‘কেন সবসময় দলকে এগিয়ে রাখে। ওকে যেতে দেওয়া সিদ্ধান্ত আমার কাছে হতাশার। একজন অসাধারণ প্লেয়ার, সতীর্থ এবং ক্রিকেটের জন্য সঠিক ব্যক্তিত্ব।’
প্রাক্তন কোচ এবং নিউ জিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার রিচার্ড হ্যাডলিও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন উইলিয়ামসনকে। তাঁর কথায়, “কেন একজন অসাধারণ ক্রিকেটার এবং নেতা। তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ স্তরে যে ধারাবাহিকতা সে দেখিয়েছে, তা তাকে এই প্রজন্মের সেরা ক্রিকেটারদের একজন করে তুলেছে।”
(Kane Williamson) উইলিয়ামসনের অবসর শুধু নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই এক যুগের অবসান। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য, নম্র ব্যক্তিত্ব এবং খেলাটির প্রতি শ্রদ্ধা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন ভক্তরা। অনেকের কাছেই কেন উইলিয়ামসনের অবসর শুধু একজন ক্রিকেটারের বিদায় নয়, ক্রিকেটের সৌন্দর্য ও ভদ্রতার এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তি।
ক্রিকেট ইতিহাসে কেন উইলিয়ামসনের নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিসংখ্যান তাঁকে মহান বলবে, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় ছিল ক্রিকেটের এক ভদ্র, মার্জিত এবং অনুপ্রেরণাদায়ী মুখ হিসেবে। আর সেই কারণেই ‘কিং কেন’-এর বিদায় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে শুধু একটি অবসর নয়, এক আবেগের অধ্যায়ের সমাপ্তি।
বিশ্বকাপের প্রথম রাতেই ফ্লপ Zee5! বাফারিং, স্ট্রিমিংয়ে ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা

