ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় জুনিয়র জুডো চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দর্শন স্পষ্ট করে দিলেন মনিপুরের লিনথোই চানামবাম। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে পদকজয়ী এই ক্রীড়াবিদ বললেন, “আমি খুব দূরের স্বপ্ন দেখি না। প্রতিদিন নিজেকে একটু ভালো করার দিকেই মন দিই। আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, কাল তার চেয়ে এক ধাপ এগোনোই আমার লক্ষ্য।”
শুধু ব্যক্তিগত দর্শন নয়, ভবিষ্যতের স্পষ্ট রোডম্যাপও শেয়ার করলেন লিনথোই। তাঁর প্রথম বড় লক্ষ্য ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস এবং সিনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। জাতীয় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।
এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের ৩১টি রাজ্য থেকে প্রায় ৮০০ জন জুডোকা অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনে ছেলেদের বিভাগে ৫৫, ৬০, ৬৬ ও ৭৩ কেজি এবং মেয়েদের বিভাগে ৪৪, ৪৮, ৫২ ও ৫৭ কেজি ক্যাটািগরিতে লড়াই হয়েছে। রবিবার ফাইনালের দিনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লিনথোইয়ের প্রদর্শনী ম্যাচ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য জুডো সংস্থার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক তপন বক্সীর স্মরণে এক লক্ষ টাকার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়। এই ঘোষণাটি করেন রাজ্য সংস্থার সভাপতি ও রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ১৫ বছর পর সর্বভারতীয় স্তরের জুডো প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলা জুডো সংস্থা। রাজ্য সংস্থার শীর্ষ কর্তা তমাল ব্যানার্জী ও সঞ্জয় তরাই জানান, হোম গ্রাউন্ডে জাতীয় প্রতিযোগিতা বাংলার খেলোয়াড়দের বড় অভিজ্ঞতা দেবে। কোচ প্রতীক চৌধুরীর মতে, এবারের আসরে বাংলার জুডোকারা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই ম্যাটে নেমেছেন, যার অন্যতম উদাহরণ দ্বীপ্তা অধিকারী।

