Site icon Hindustan News Point

৪০ বছরেও জার্মানির শেষ ভরসা, কুরাসাও ম্যাচ দিয়ে অবসরের পরও বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ন্যুয়ারের

Manuel Neuer

জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে বহু কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসেছেন। তবে আধুনিক যুগে (Manuel Neuer) ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের মতো প্রভাবশালী গোলকিপার খুব কমই দেখা গেছে। বয়স এখন ৪০। (Manuel Neuer) আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরও নিয়েছিলেন। তবুও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও জার্মানির জার্সি গায়ে মাঠে নামতে চলেছেন তিনি। জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান নিশ্চিত করেছেন, রবিবার হিউস্টনে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথম একাদশেই থাকবেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।

ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর জার্মানির হয়ে খেলেননি ন্যুয়ার। প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরছেন তিনি। বর্তমানে (Manuel Neuer) তাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ১২৪, যা জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

(Manuel Neuer) ন্যুয়ারকে ফেরানোর পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তব কারণও। চলতি মরসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা। বুন্দেসলিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বায়ার্নকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত তুলতে সাহায্য করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে কাফ ইনজুরির কারণে কিছুটা সমস্যায় থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি ফিট বলে জানিয়েছেন নাগেলসমান।

ভিনিসিয়াসের জবাব, বোনোর দুরন্ত রক্ষণ! হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের আগে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-০ এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জেতা প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি ন্যুয়ার। তবে জার্মান কোচ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। সেই কারণেই তাঁকে আবারও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক ফুটবলে ন্যুয়ারকে শুধু একজন গোলকিপার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ‘সুইপার-কিপার’ ধারণাটিকে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। ডিফেন্স লাইনের অনেকটা সামনে উঠে এসে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা, দ্রুত বল বিতরণ এবং চাপের মুহূর্তে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো—এই সব দিক থেকেই এখনও জার্মানির জন্য অমূল্য সম্পদ তিনি।

বিশ্বকাপে ন্যুয়ারের অতীত রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন তিনি। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—মোট চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানিকে শিরোপা জেতাতে তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ। সেই আসরে (Manuel Neuer) তিনি গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কারও জেতেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন ন্যুয়ার এবং বহুবার ক্লিন শিট রেখে দলকে বাঁচিয়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলকিপার হিসেবেও তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়।

কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচকে হালকাভাবে নিতে নারাজ নাগেলসমান। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া ক্যারিবীয় দেশটিকে তিনি ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, চাপহীন অবস্থায় খেলতে নামা দলগুলো অনেক সময় বড় অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।

নাগেলসমান বলেন, “আপনি ফেভারিট হলেই ম্যাচ জিতে যাবেন না। জিততে হলে সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে।” কুরাসাওয়ের ফুটবলারদেরও তিনি যথেষ্ট প্রশিক্ষিত এবং বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ম্যাচের আগে সব আলো এখন ন্যুয়ারের ওপর। আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ফিরে আসা এই কিংবদন্তি কি আবারও জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারবেন? ৪০ বছর বয়সেও তাঁকে ঘিরে জার্মান শিবিরের আস্থা বলছে—উত্তরটা এখনও ‘হ্যাঁ’।

মিশর ম্যাচের আগে চমক, আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ইঙ্গিত কুর্তোয়ার


Exit mobile version