Site icon Hindustan News Point

MBSG vs EBFC: শেষ মুহূর্তের নাটুকে ড্র, জেসন কামিন্সের গোলে মুখরক্ষা মোহনবাগানের

MBSG vs EBFC

বহুদিন পর কলকাতার যুবভারতীতে ফিরে এসেছিল ডার্বির সেই চেনা পরিচিত রূপ। মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। খেলার শুরুতেই মোহনবাগানের প্রয়াত প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন (টুটু) বসুর স্মৃতিতে নীরবতা পালন করেন দুই দলের ফুটবলাররা। এরপর বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে মোহনবাগান। ম্যাচের প্রথম দিকেই কর্নার পায় সবুজ-মেরুন। লিস্টন কোলাসোর ক্রস থেকে টম অলড্রেড হেড করতে গেলেও বল বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার সুযোগ তৈরি করে বাগান। শুভাশিস বসু বল কেড়ে সাহাল আব্দুল সামাদের উদ্দেশে পাস বাড়ালেও শট নেওয়ার আগেই ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার বিপদ সামলে দেন।

শুরুর চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে লাল হলুদ শিবিরও। ১৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ আসে তাদের সামনে। বক্সের বাইরে থেকে অ্যান্টন সোজবার্গের বাঁ-পায়ের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মাঝমাঠে পিভি বিষ্ণু দারুণ ফুটবল খেলছিলেন। তাঁর দ্রুত আক্রমণ থেকেই সুযোগ তৈরি হচ্ছিল লাল-হলুদের। তবে সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিংহ।

জিকসন সিংহের থ্রু বল ধরে একা গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে গিয়েও বেশি সময় নেওয়ায় শটটাই নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল বেরিয়ে যায়। (MBSG vs EBFC)

ম্যাচ যত এগোচ্ছিল, ততই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে উঠছিল ডার্বি। এদিন খেলা দেখতে মাঠে এসেছিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়াও ছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, কল্যাণ চৌবে।

২৫ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আলবার্তো রদ্রিগেজ়। ২৮ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচান প্রভসুখন সিংহ।

৩৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়ে শট নেন লিস্টন, কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তার এক মিনিট পর আবার বড় সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলের বাড়ানো পাস থেকে সোজবার্গ একেবারে ফাঁকা জায়গায় বল পেলেও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তা বিশাল কাইথের হাতেই তুলে দেন। সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন কোচ অস্কার ব্রুজ়োও। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয়। (MBSG vs EBFC)

Cristiano Ronaldo: ‘মেডেল নিতেও রাজি নন রোনাল্ডো!’ আল-নাসরের হারেই ক্ষোভে মাঠ ছাড়লেন CR7

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। ইস্টবেঙ্গল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। শুভাশিস বসুর ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন বিপিন সিংহ, কিন্তু তাঁর শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। যুবভারতীতে উপস্থিত দর্শকের গর্জনে তখন মাঠ উত্তাল। ৫৯ মিনিটে লিস্টনের ফ্রি-কিক গোলমুখে থাকলেও তা জালে জড়ায়নি।

এরপর ইউসেফ এজেজারিকে মাঠে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ। ৬৬ মিনিটে পরপর দু’টি সুযোগ তৈরি হয়। প্রথমে মিগুয়েলের শট বাঁচান বিশাল কাইথ। ফিরতি বলে ইউসেফের শট আটকে দেন অলড্রেড।

অন্যদিকে মোহনবাগানের আক্রমণে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ছিল। জেমি ম্যাকলারেন ও সাহালদের মধ্যে গতি এবং সমন্বয় দেখা যাচ্ছিল না। তাই সাহালকে তুলে দিমিত্রি পেত্রাতোসকে নামান সের্জিয়ো লোবেরা। বাগানের বেশিরভাগ আক্রমণ হচ্ছিল ডান দিক দিয়ে, কিন্তু তাতে ভারসাম্যের অভাব ছিল।

৭৮ মিনিটে বড় বিতর্ক তৈরি হয়। থ্রু বল থেকে ভাল জায়গায় বল পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। কেভিন সিবিলেকে কাটিয়ে এগোতে গেলে সিবিলে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পড়ে যান। রেফারি ম্যাকলারেনের ফাউল ভেবে খেলা থামিয়ে দেন। রিপ্লেতে দেখা যায় কোনও ফাউল হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে পেনাল্টিও হতে পারত মোহনবাগানের পক্ষে।

শেষদিকে গোলের খোঁজে জেসন কামিন্সকে নামান লোবেরা। কিন্তু ৮৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এজেজারির থেকে বল পেয়ে মিগুয়েল দারুণ পাস বাড়ান এডমুন্ড লালরিন্ডিকার উদ্দেশে। কাইথকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এডমুন্ড। লাল-হলুদ শিবিরে তখন উচ্ছ্বাস। (MBSG vs EBFC)

তবে নাটক তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের যখন প্রায় শেষ লাল হলুদ শিবির ধরেই নিয়েছে তারা জিতে গেছে তখনই ৮৯ মিনিটে গোল শোধ করে মোহনবাগান। জেসন কামিন্স গোল করে সবুজ মেরুনকে সমতায় ফেরান। শেষ মুহূর্তের সেই গোলে হার এড়াতে সক্ষম হলো সবুজ-মেরুন। ৯০ মিনিট শেষে উত্তেজনাপূর্ণ এই ডার্বি ১-১ ফলেই শেষ হলো।


Exit mobile version