Site icon Hindustan News Point

Nisith Pramanik: পদক জিতলেই আর্থিক পুরস্কার ও সরকারি চাকরি, বাংলার ক্রীড়াবিদদের আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর

Nisith Pramanik

বাংলা থেকে অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক বা কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে সফল অ্যাথলিটের সংখ্যা অত্যন্ত কম (Nisith Pramanik)। সেই পরিস্থিতি বদলাতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর। মঙ্গলবার, ১৯ মে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ক্রীড়াবিদদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন। পদকজয়ীদের জন্য বিপুল আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি সরকারি চাকরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এতদিন রাজ্যের তরফে ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক পুরস্কারের কোনও স্পষ্ট কাঠামো ছিল না। এবার থেকে জাতীয় গেমসে সোনা জিতলে ৭ লক্ষ, রুপো পেলে ৬ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা চাই বাংলার আরও বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পাক এবং রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করুক।”

অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের পুরস্কারের অঙ্কও এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। আগে অলিম্পিকে সোনা জিতলে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হতো। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা। রুপো জিতলে ৬ কোটি এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৪ কোটি টাকা দেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, “আগের সরকার যেখানে সীমিত পুরস্কার দিত, আমরা চাই খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করেন।”

এশিয়ান গেমসেও পুরস্কারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সোনা জিতলে ৫ কোটি টাকা, রুপো জিতলে ৪ কোটি এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ২ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আগে যেখানে সোনা জিতলে মাত্র সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হতো, সেখানে এই বৃদ্ধি নজর কেড়েছে।

ফুড কোর্ট, পরিশ্রুত পানীয় জল, যুবভারতীকে বদলে ফেলার আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর

কমনওয়েলথ গেমসের ক্ষেত্রেও নতুন পুরস্কার কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। সোনা জিতলে ১.৫ কোটি, রুপো পেলে ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া যে কোনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলে ২ কোটি, রুপো জিতলে ১.৫ কোটি এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

শুধু আর্থিক পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না রাজ্যের পরিকল্পনা। অলিম্পিক বা কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী DSP পদমর্যাদা পর্যন্ত সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। পাশাপাশি স্বীকৃত স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন ও ক্লাবগুলিকে নিয়ম মেনে অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেলা স্তর থেকে প্রতিভা তুলে আনতে ক্রীড়া মহোৎসব আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। খেলো ইন্ডিয়া ও সাইয়ের পরামর্শে একটি অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠন করে ক্রীড়া উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক।

রাজ্যের ফুটবল নিয়েও এ দিন মুখ খোলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। ISL-এ অংশ নেওয়া বাংলার তিন প্রধান ক্লাবের মধ্যে মহামেডান স্পনসর সমস্যার কারণে সঠিকভাবে দল গঠন করতে পারেনি, যার ফলে অবনমন হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলও একাধিকবার স্পনসর সমস্যায় পড়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আশা করছি বাংলার ফুটবল দলগুলো বড় স্পনসর পাবে। কোনও সমস্যা হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পাশে দাঁড়াবে। শুধু ফুটবল নয়, সব খেলাকেই সাহায্য করবে সরকার।”

এছাড়াও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে থাকা বিতর্কিত মূর্তি সরানোর বিষয়েও ফের সরব হন তিনি। জানান, পূর্ত দপ্তরকে ইতিমধ্যেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত মূর্তিটি সরানো হবে। পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম আধুনিকীকরণের কথাও ঘোষণা করেন। সেখানে অলিম্পিক মানের ট্র্যাক বসানো হবে এবং ফের ফুটবল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী।


Exit mobile version