রঞ্জি ট্রফিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে এক ইনিংস ও ৪৬ রানের বড় জয়ে শুধু ম্যাচ জেতেনি বাংলা, আবারও প্রমাণ হয়ে গেল কেন ঘরোয়া ক্রিকেটে মহম্মদ সামি এখনও অপ্রতিরোধ্য এক নাম (Mohammed Shami)। কল্যাণীতে এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। কিন্তু এই ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন নিঃসন্দেহে মহম্মদ সামি।
তৃতীয় দিনের শেষে ছবিটা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ফলো-অন করতে নেমে ১০২ রানে পিছিয়ে ছিল সার্ভিসেস, হাতে মাত্র দুই উইকেট। চতুর্থ দিনের সকালে আকাশ দীপ ও শাহবাজ় আহমেদ শেষ উইকেট দু’টি তুলে নিলেও, পুরো ম্যাচ জুড়ে বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সামি। প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি কার্যত একাই ভেঙে দেন সার্ভিসেসের প্রতিরোধ।

এই ম্যাচে দু’ইনিংস মিলিয়ে সামির শিকার সাত উইকেট। সংখ্যাটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং তাঁর নিয়ন্ত্রণ, লাইন-লেন্থ এবং অভিজ্ঞতার প্রমাণ। বয়স ৩৫ হলেও সামির বোলিংয়ে কোনও ক্লান্তির ছাপ নেই। নতুন বল হোক বা পুরনো বল, প্রতি স্পেলে একই আগ্রাসন, একই তীক্ষ্ণতা ধরে রেখেছেন তিনি।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সামি নিজেই জানালেন তাঁর মোটিভেশনের কথা। জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও হতাশ নন তিনি। তাঁর কথায়, “রঞ্জি ট্রফি এখনও ভারতীয় দলে ঢোকার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এখানে খেলতে হলে স্কিল, আত্মবিশ্বাস আর খিদে—সবকিছু একসঙ্গে দরকার।” সামির বিশ্বাস, নিজের রাজ্যের হয়ে খেলাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
বাংলার জার্সিতে তাঁর আবেগের কথাও শোনা গেল স্পষ্টভাবে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই জাতীয় দলে ওঠা সামি বলেন, “প্রথম দিন বাংলার হয়ে নামার যে অনুভূতি ছিল, সেটা আজও একই রকম। এই দল আমাকে তৈরি করেছে। তাই বাংলার হয়ে খেললে সবসময় নিজের ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করি।”

শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, তরুণদের পথ দেখাতেও আগ্রহী সামি। সার্ভিসেস ম্যাচের পর তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন বহু তরুণ ক্রিকেটার। তাঁদের উদ্দেশে সামির পরামর্শ—নিজের স্ট্রেংথ বুঝে প্রস্তুতির দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। উইকেট না পেলেও নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকতে পারাই আসল সাফল্য।
সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ডাবল সেঞ্চুরি, অভিমন্যু ঈশ্বরনের নেতৃত্ব, আকাশ-মুকেশদের সহায়তা—সব মিলিয়ে বাংলা নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। তবে এই দলের হৃদয়ে এখন একজনই নাম—মহম্মদ সামি। তাঁর ফিটনেস, অভিজ্ঞতা ও আগুনে ছন্দই এ বার বাংলার রঞ্জি স্বপ্নের সবচেয়ে বড় ভরসা। ২৯ জানুয়ারি হরিয়ানার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে সেই স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে আবারও নেতৃত্ব দেবেন সামিই।








