Site icon Hindustan News Point

Mohan Singh: পায়ে যাদু আর হৃদয়ে ছিল বাংলা, চিরবিদায় ময়দানের মোহন সিং

Mohan Singh

কলকাতা ময়দান আজ যেন একটু বেশি নীরব। গ্যালারির সেই চেনা চিৎকার, ডার্বির উত্তাপ, সব কিছুর মাঝেও বৃহস্পতিবার এক গভীর শূন্যতার খবর এসে থমকে দিল ফুটবলপ্রেমীদের। প্রয়াত প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার মোহন সিং (Mohan Singh)। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৮।

তিনি শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, ছিলেন এক সময়ের ময়দানের আবেগ। বল পায়ে পড়লেই যাঁর ফুটবল কথা বলত। যাঁকে দেখেই এক প্রজন্ম শিখেছিল, মিডফিল্ডার মানে শুধু পাস দেওয়া নয়, পুরো ম্যাচের ছন্দ তৈরি করা।

১৯৪৭ সালে পাঞ্জাবে জন্ম হলেও মোহন সিং নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলায়। (Mohan Singh) প্রায়ই হাসিমুখে বলতেন, “আমি তো বাংলারই লোক।” সেই কথাটা শুধু মুখে নয়, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। কলকাতা ময়দানই ছিল তাঁর ঘর, আর গ্যালারির মানুষ ছিল তাঁর পরিবার।

ফুটবল তাঁকে অমর করেছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর শুরুটা হতে পারত অন্যভাবে। ক্রিকেটেও ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। ১৯৬৪ সালে ভারতীয় স্কুল ক্রিকেট দলে খেলেছিলেন তিনি। সেই দলে ছিলেন সুনীল গাভাসকর, একনাথ সোলকার, মহিন্দর ও সুরিন্দর অমরনাথের মতো ভবিষ্যতের কিংবদন্তিরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট দলে সুযোগও পেয়েছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, ভারত হয়তো এক দারুণ ক্রিকেটার পেতে চলেছে। কিন্তু মোহন সিং (Mohan Singh) অন্য রাস্তা বেছে নিলেন। তিনি বেছে নিলেন ফুটবলকে। আর সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে জায়গা করে দিল ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে।

‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ শেষ, IPL-এ শুধু চার-ছক্কার বিনোদন চাই BCCI-এর: Mohan Singh: পায়ে যাদু আর হৃদয়ে ছিল বাংলা, চিরবিদায় ময়দানের মোহন সিং

১৯৬৭ সালে এরিয়ান ক্লাব থেকে শুরু হয়েছিল (Mohan Singh) তাঁর ফুটবল সফর। এরপর বিএনআর, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডান— কলকাতার তিন প্রধানেই খেলেছেন তিনি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হয় ১৯৭২ সালের সেই ইস্টবেঙ্গল দলকে, যেখানে মোহন সিং ছিলেন মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। সেই বছর লাল-হলুদ অপরাজিত থেকে পাঁচটি ট্রফি জিতেছিল। ত্রিমুকুটও এসেছিল ক্লাবের ঝুলিতে। আর সেই মরসুমে কলকাতা ভেটারেন্স ক্লাব তাঁকে নির্বাচিত করেছিল ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ হিসেবে।

মোহনবাগানেও নিজের ছাপ রেখে গিয়েছিলেন তিনি। পরে আবার ফিরে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলে। ১৯৭৫ সালে লাল-হলুদের ঐতিহাসিক ৫-০ শিল্ড জয়ের সময়ও তিনি দলের অংশ ছিলেন। যদিও সেই ফাইনালে তাঁকে খেলাননি কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু ক্লাবের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনও কমেনি।

মাঠে তাঁর ফুটবল ছিল নান্দনিক। নিখুঁত পাস, অসাধারণ বল কন্ট্রোল আর ম্যাচের গতি বুঝে খেলার ক্ষমতা তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আজকের প্রজন্ম হয়তো তাঁকে খেলতে দেখেনি, কিন্তু কলকাতা ময়দানের পুরনো মানুষদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত মোহন সিংয়ের সেই দৌড়, সেই স্কিল, সেই শিল্প।

আজ তিনি নেই। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গিয়েও হারিয়ে যান না। তাঁরা থেকে যান গল্পে, স্মৃতিতে, আবেগে। কলকাতা ময়দানের ঘাসে, গ্যালারির হাওয়ায়, পুরনো ডার্বির আলোচনায় বারবার ফিরে আসবেন মোহন সিং (Mohan Singh)। কারণ, কিংবদন্তিদের মৃত্যু হয় না। তাঁরা শুধু ইতিহাস হয়ে যান।

‘ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়েছিলাম বলেই চন্দ্রনাথকে খুন হতে হলো’, বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর: Mohan Singh: পায়ে যাদু আর হৃদয়ে ছিল বাংলা, চিরবিদায় ময়দানের মোহন সিং
Exit mobile version