ISL-এর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পাঞ্জাব এফসি-কে ৩-২ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে Mohun Bagan SG। ঘরের মাঠে এই জয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে নাটকীয় জয় সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন কোচ সের্জিও লোবেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল মোহনবাগান, কিন্তু ১২ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। পাঞ্জাবের হয়ে রামিরেজ সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজকে, যা রক্ষণে চাপ আরও বাড়ায়।
২৯ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেনের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফের পিছিয়ে পড়ে তারা, যখন ৬০ মিনিটে ইফইয়ং গোল করে পাঞ্জাবকে ২-১ এগিয়ে দেন। ম্যাচ তখন কার্যত কঠিন পরিস্থিতিতে চলে যায় বাগানের জন্য।
এরপরই বদলি খেলোয়াড়দের হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়ায় মোহনবাগান। ৬৯ মিনিটে মাঠে নামা সাহাল আব্দুল সামাদ ৭৩ মিনিটে দুরন্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান। আর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে জেসন কামিন্স গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচে ‘সুপার সাব’ হিসেবে সাহাল ও কামিন্সের পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তবে রক্ষণে বারবার ভুল এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা নিয়ে হতাশ লোবেরা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “শুধু ফলাফল দিয়ে বিচার করলে হবে না। এই ধরনের ফুটবল খেললে লিগ জেতা কঠিন। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, গোলকিপার বিশাল কাইথ ভালো খেলায় না থাকলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। পাশাপাশি রদ্রিগেজ ও শুভাশিস বসুর চোট নিয়ে কিছুটা চিন্তাও প্রকাশ করেছেন কোচ।
এদিকে, ম্যাচের আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন জেমি ম্যাকলারেন। ম্যাচের আগের দিন তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হলেও দলের স্বার্থে মাঠে নামেন তিনি এবং গোলটি উৎসর্গ করেন প্রয়াত ঠাকুমাকে।
পরপর দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর এই জয় মোহনবাগানের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ দল। সামনে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটানোই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।

