Site icon Hindustan News Point

Mohun Bagan Super Giant: পুকুরসম মাঠে সবুজ মেরুনের দাপট, নর্থ ইস্টকে হারিয়ে টেবল টপার মোহনবাগান

Mohun Bagan Super Giant

গুয়াহাটির মাঠের পরিস্থিতি যেন লজ্জায় ফেলল কলকাতার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচকেও। অঝোর ধারায় বৃষ্টি, মাঠজুড়ে জল—তার মধ্যেই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি ক্রিস্টাল জন (North East United FC vs Mohun Bagan Super Giant)। যে মাঠে স্বাভাবিকভাবে স্থানীয় টুর্নামেন্টও আয়োজন কঠিন, সেখানে দেশের শীর্ষ লিগের ম্যাচ হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে, একই সময় কলকাতায় এক অভিজাত অনুষ্ঠানে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরছিলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁর বক্তব্যে প্রশংসার সুর থাকলেও, গুয়াহাটির মাঠে যা ঘটল তা সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি তুলে ধরল।

ম্যাচের পর নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড কোচ পেড্রো বেনালি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি লাল কার্ডও দেখেন। তাঁর মতে, এমন খারাপ মাঠে খেলা চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ভারতীয় ফুটবলের রেফারিংয়ের মান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

ম্যাচের শুরুতেই চতুর্থ মিনিটে রবসনের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। সাহাল আব্দুল সামাদের পাস থেকে সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষে উঠে যায় সের্জিও লোবেরার দল।

তবে স্কোরলাইন ম্যাচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারেনি। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডও একাধিক আক্রমণ তুলে ধরেছিল, বিশেষ করে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে তাদের কাছে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমার্ধের শেষে বৃষ্টি আরও জোরদার হয়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হলেও মাঠে জল জমে যাওয়ায় খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। মাঠকর্মীরা জল সরিয়ে প্রায় আধঘণ্টা পর খেলা শুরু করলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ঘাসের নিচে জল জমে থাকায় বল গড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে স্বাভাবিক ফুটবল খেলা অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই অবস্থায় নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে ম্যাচ বন্ধ করার আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ করে দেন রেফারি। নিয়ম অনুযায়ী, অযোগ্য মাঠের কারণে খেলা বন্ধ হলে ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই তাদের আপত্তিকে অনেকেই যথার্থ বলেই মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, গুয়াহাটির এই ম্যাচ আবারও সামনে এনে দিল আইএসএলের রেফারিং ও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। মাঠের এই বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক দাবির মধ্যে ফারাক কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।


Exit mobile version