নতুন মরসুমের আগে দল গঠনের কাজে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ভারতের জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার (Rahul Bheke) রাহুল ভেকে এক বছরের চুক্তিতে যোগ দিলেন সবুজ-মেরুন শিবিরে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫০টি বেশি ম্যাচ খেলা এই রক্ষণভাগের ভরসাযোগ্য ফুটবলারের আগমনে শুধু ডিফেন্সই নয়, নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং সেট-পিসে আক্রমণাত্মক শক্তিও বাড়তে চলেছে মোহনবাগান শিবিরে।
ভারতীয় ফুটবলে গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Rahul Bheke) রাহুল ভেকে। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে তাঁর প্রধান পরিচয় হলেও প্রয়োজন হলে রাইট-ব্যাকেও সমান দক্ষতায় খেলতে পারেন তিনি। কেরল ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি এফসি এবং বেঙ্গালুরু এফসির মতো ক্লাবে খেলে ISL-এ নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বারবার।
জাতীয় দলের জার্সিতেও তাঁর (Rahul Bheke) অবদান কম নয়। ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি একাধিকবার অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন। ডিফেন্সে দৃঢ়তা, বল কন্ট্রোল, আকাশপথে আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। বিশেষ করে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে গোল করার দক্ষতার জন্য তিনি প্রতিপক্ষের কাছে সবসময়ই বাড়তি হুমকি।
মোহনবাগানে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস গোপন করেননি রাহুল। চুক্তি সইয়ের পর তিনি (Rahul Bheke) বলেন, “যে কোনও ভারতীয় ফুটবলারের কাছেই মোহনবাগানে খেলার স্বপ্ন থাকে। দেশের সেরা ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত এবং রোমাঞ্চিত। এখানে আমার জাতীয় দলের অনেক সতীর্থ খেলেন। তাই মানিয়ে নিতে কোনও সমস্যা হবে না। নিজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে চাই।”
(Rahul Bheke) তিনি আরও বলেন, “বছরের পর বছর কেরল, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলেছি। প্রতিপক্ষ হিসেবে বহুবার দেখেছি মোহনবাগান কতটা শক্তিশালী দল। এবার সেই দলের অংশ হতে পেরে ভাল লাগছে। আমার লক্ষ্য শুধু ISL নয়, সব প্রতিযোগিতাতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া।”
Rahul, naam toh suna hoga 😉💚♥️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/J19ryrAqet
— Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) June 18, 2026
কলকাতার ফুটবল আবহও তাঁর কাছে নতুন নয়। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে রাহুলের। এমনকি ডার্বিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে জয়ও পেয়েছেন। সেই স্মৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ডার্বিতে গোল করেছিলাম। এবার পরিস্থিতি উল্টো। মোহনবাগানের জার্সিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জেতার এবং গোল করার স্বপ্ন নিয়েই চুক্তিতে সই করেছি।”
(Rahul Bheke) রাহুলের আগমন মোহনবাগানের রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। গত মরসুমে দলের ডিফেন্স যথেষ্ট সফল হলেও দীর্ঘ মরসুমে চোট, সাসপেনশন ও ম্যাচের চাপ সামলাতে বেঞ্চের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গাতেই বড় সংযোজন রাহুল।
সবুজ-মেরুনের বর্তমান স্কোয়াডে আলবার্তো রদ্রিগেজ, আশিস রাই, শুভাশিস বসুদের মতো ডিফেন্ডার রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রাহুলের অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতা যেমন বাড়বে, তেমনই রক্ষণভাগে বিকল্পও তৈরি হবে। তিন ডিফেন্ডারের ফরমেশন হোক বা চার ডিফেন্ডারের, দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন তিনি।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নেতৃত্বের গুণ। জাতীয় দল ও বিভিন্ন ক্লাবে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে মাঠে তরুণ ফুটবলারদের গাইড করা, চাপের ম্যাচে সংগঠিত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতি বাড়তি সুবিধা দেবে।
ISL শিল্ড ও কাপ জয়ের পর এবার AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-সহ একাধিক প্রতিযোগিতায় নামবে মোহনবাগান। ফলে বড় স্কোয়াড এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার প্রয়োজন ছিল। সেই চাহিদা পূরণ করতেই রাহুল ভেকের মতো পরীক্ষিত ভারতীয় ডিফেন্ডারকে দলে টানল সবুজ মেরুন ম্যানেজমেন্ট।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাহুল ভেকের আগমন শুধু একটি সই নয়, বরং মোহনবাগানের নতুন মরসুমের পরিকল্পনায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রক্ষণে দৃঢ়তা, সেট পিসে বাড়তি অস্ত্র এবং ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব—এই তিন ক্ষেত্রেই সবুজ মেরুনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন জাতীয় দলের এই তারকা ডিফেন্ডার।
টানা ১০ ম্যাচে গোল নেই! বিশ্বকাপে রোনাল্দোর ফর্ম নিয়ে বাড়ছে চিন্তা

