Site icon Hindustan News Point

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় নেইমারের

neymar retirement

১৬ বছর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের পথচলা শুরু হয়েছিল নেইমারের (Neymar Retirement)। রবিবার সেই একই মাঠেই যেন পূর্ণ হলো জীবনের এক বৃত্ত। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সেলেকাওদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। চোখের জল মুছতে মুছতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি নেইমারের বিদায়ের খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন ব্রাজিল সমর্থকেরাও।

আবেগঘন বিদায়ী বার্তা

সাংবাদিকদের সামনে নেইমার বলেন, “আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি। দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এবার সময় এসেছে থামার। এই স্টেডিয়ামেই আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, আর এখানেই সেটার সমাপ্তি ঘটল।”

১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হলো বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কষ্ট নিয়েই।

শেষ বিশ্বকাপ, শেষ গোল

চোট নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন নেইমার। সেই কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে খেললেও জাপানের বিরুদ্ধে সুযোগ পাননি।

তবে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে তাঁকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বদলি হিসেবে নেমেই গোল করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকল ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক গোল। কিন্তু সেই গোলও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলদাতা

জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। ২০১০ সালে অভিষেকের পর তিনি ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ। করেছেন ৮০টি গোল এবং রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিক। এই পরিসংখ্যান তাঁকে ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।

তিনি চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ, ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এবং ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রৌপ্যপদক। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

চোট, সমালোচনা এবং মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক সঙ্গী হলেও নেইমার ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবেন। বিশ্বকাপ জয়ের অপূর্ণতা থাকলেও তাঁর প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং অবদানের জন্য ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নেইমারের নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরেই লেখা থাকবে।


Exit mobile version