Site icon Hindustan News Point

Nishith Pramanik: ফুড কোর্ট, পরিশ্রুত পানীয় জল, যুবভারতীকে বদলে ফেলার আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর

Nishith Pramanik

কলকাতা ডার্বির আবহ যে এখনও একই রকম আবেগ আর উন্মাদনায় ভরা, রবিবার যুব ভারতীতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগানের খেলার পর তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ম্যাচের ফলাফল ১-১ হলেও দর্শকদের উন্মাদনায় একটুও ভাটা পড়েনি। খেলা দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik)। গ্যালারির ৬২ হাজার সমর্থকদের উন্মাদনা, টানটান উত্তেজনার ম্যাচ— সব মিলিয়ে ডার্বির আবহে মুগ্ধ তিনি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে সেই কথাই জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী।

এ দিন ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল ফিগুয়েরা। তাঁর হাতেই পুরস্কার তুলে দেন নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik)। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকলাম।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে যুবভারতীর পরিকাঠামো আরও উন্নত করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটার কেন উইলিয়ামসনও। আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজ়র তিনি। খেলা দেখে বেরোনোর সময় জানিয়ে গেলেন, “দারুণ অভিজ্ঞতা।”

এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, মাঠে সমর্থকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ফুড কোর্ট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পানীয় জলের যে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের ভোগাচ্ছে, সেটিও দ্রুত মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তাঁর কাছে একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ (Nishith Pramanik) জানান, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মিঠুনদার ইচ্ছামতো যেকোনো মাঠ তাঁকে দেওয়া হবে।”

এরপরই কলকাতায় মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও সরব হন নিশীথ প্রামাণিক। বহু ফুটবলপ্রেমী তখন কষ্ট করে টাকা জমিয়ে টিকিট কেটেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন— সেই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “মেসিকে দেখতে এসে যাঁরা প্রতারিত হয়েছেন তাঁদের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ইতিমধ্যেই সেই ফাইল খোলা হয়েছে। কোথায় গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। যারা টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অর্থ ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হবে।”

MBSG vs EBFC: শেষ মুহূর্তের নাটুকে ড্র, জেসন কামিন্সের গোলে মুখরক্ষা মোহনবাগানের

এছাড়া তৃণমূল জামানায় যুবভারতীতে ঢোকার মুখে একটি অদ্ভূত দর্শন মূর্তি রাখা হয়েছিল। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, ওই মূর্তির কোনও মানে হয় না, ওটা বসানোর পরই সরকার পাল্টে গেল। নতুন সরকার ওই মূর্তি ভবিষ্যতে সরিয়ে ফেলবে। এদিন ডার্বির মাঠে শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, সম্প্রীতির ছবিও ধরা পড়ে। ম্যাচ শুরুর প্রায় আধ ঘণ্টা আগে ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করেন ছ’জনের একটি দল। সেখানে একজনের গায়ে ছিল মোহনবাগানের জার্সি, অন্যজন পরে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের জার্সি। শতবর্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও পারস্পরিক সম্মানের বার্তাই যেন তুলে ধরছিল সেই দৃশ্য।

খেলা শুরুর আগেই গ্যালারি থেকে নেমে আসে বড় টিফো। তাতে লেখা ছিল— “A Century of Rivalry, Bound by Respect।” অর্থাৎ শতবর্ষের লড়াই হলেও সম্মান থাকবে অটুট। তবে মাঠে সেই সম্মান দেখাতেই বোধ হয় দুই দলই একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে। দুই দলের হয়ে মুখ রক্ষা করেন যথাক্রমে এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং জেসন কামিংস। ফলে ম্যাচ অমীমাংসিতই রয়ে যায়। বৃহস্পতিবার লিগের শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে দুই দলের ভবিষ্যৎ।


Exit mobile version