আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কার্যত বিশ বাঁও জলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan T20 World Cup)। আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা করেই বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। প্রকাশ্যে বয়কটের কথা বললেও, সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে এখনও পর্যন্ত আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ই-মেল বা লিখিত সিদ্ধান্ত জানাতে সাহস পাচ্ছে না তারা। এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই ইস্যুতে পাশে দাঁড়ানোর জন্য অন্য ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলোর দরজায় দরজায় ঘুরেও কার্যত কাউকে পাশে পায়নি পাকিস্তান।
রেভস্পোর্টজ়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবি গত দু’দিন ধরে আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের প্রশ্নে সমর্থন চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি বোর্ডই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত এই বিতর্কে তারা কোনও ভাবেই জড়াতে চায় না। বরং অনেক বোর্ডই মনে করছে, পাকিস্তানের অবস্থান বারবার বদলানোয় তাদের উপর ভরসা করা যায় না। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক ম্যাচ খেলার নজির রয়েছে পাকিস্তানেরই।
ম্যাচের মাঝে ‘চুরি’ পাকিস্তানের, আম্পায়ারকে বোকা বানিয়ে আউট করলেন অজি ব্যাটারকে
বিশ্লেষকদের মতে, আগেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে এসেছে পিসিবি। ফলে এই বয়কট কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্য দিকে, আইসিসি-র অধিকাংশ সদস্য দেশই মনে করছে, পর্যাপ্ত আইনি বা নৈতিক কারণ ছাড়াই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ইস্যুকে সামনে রেখে আসলে ভারত ও আইসিসি-কে চাপে ফেলাই তাদের লক্ষ্য—এই ধারণাই জোরাল।
১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বে নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বা পিসিবি কেউই আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে না খেলার সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠছে—এই টালবাহানির শেষ কোথায়, আর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কি একাই একঘরে হয়ে পড়বে না?

