ইংল্যান্ড ক্রিকেটে তৈরি হল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইংল্যান্ড পুরুষদের সিনিয়র টেস্ট দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রাক্তন উইকেটকিপার সারা টেলর (Sarah Taylor)। তিনিই হলেন প্রথম মহিলা, যিনি ইংল্যান্ড পুরুষদের জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে জায়গা পেলেন। আগামী নিউ জিল্যান্ড সিরিজে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দলের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। ক্রিকেটবিশ্বে এই সিদ্ধান্ত শুধু চমকই নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তাও বহন করছে।
৩৭ বছর বয়সি সারা টেলর (Sarah Taylor) মহিলাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার হিসেবে পরিচিত। ব্যাট হাতে যেমন নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তেমনই উইকেটের পিছনে তাঁর ক্ষিপ্রতা ও দক্ষতা দীর্ঘদিন প্রশংসিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি খেলেছেন মোট ২২৬টি ম্যাচ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়েও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
অবসরের পর থেকেই কোচিং জগতে নিজেকে তৈরি করছিলেন সারা। ইংল্যান্ড লায়ন্স দলে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়াও (Sarah Taylor) সাসেক্স পুরুষ দল এবং দ্য হান্ড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানচেস্টার অরিজিনালসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর কোচিং দক্ষতা এতটাই নজর কেড়েছে যে এবার সরাসরি ইংল্যান্ডের সিনিয়র পুরুষ টেস্ট দলের দরজা খুলে গেল তাঁর জন্য।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) ডিরেক্টর অব ক্রিকেট রব কি সারা টেলরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, “সারা নিজের কাজের ক্ষেত্রে সেরাদের একজন। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ এবং এড বার্নি ওঁর সম্পর্কে অসাধারণ কথা বলেছেন। আমরা যা দেখেছি, তাতে ও নিঃসন্দেহে এই কাজের জন্য অন্যতম সেরা।”
মূলত নিয়মিত ফিল্ডিং কোচ কার্ল হপকিনসন বর্তমানে IPL-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে ব্যস্ত থাকায় নিউ জিল্যান্ড সিরিজে দায়িত্ব পাচ্ছেন সারা। তবে ECB-র এই সিদ্ধান্ত শুধুই অস্থায়ী সমাধান নয় বরং নারী কোচদের প্রতি বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকেই।
গত অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। একাধিক সহজ ক্যাচ মিস করে ম্যাচের গতি হারিয়েছিল বেন স্টোকসের দল। সেই ব্যর্থতার পর ফিল্ডিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা শুরু হয়। সেখানেই সারা টেলরের মতো একজন কিংবদন্তির অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকসের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল ইতিমধ্যেই আগ্রাসী ক্রিকেটের নতুন ধারা তৈরি করেছে। এবার সেই দলের ড্রেসিংরুমে (Sarah Taylor) সারা টেলরের উপস্থিতি ক্রিকেটে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নারী-পুরুষ বিভাজনের বাইরে গিয়ে দক্ষতাকেই যে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এই নিয়োগ যেন সেই বার্তাই দিল বিশ্ব ক্রিকেটকে।
আসন্ন নিউ জিল্যান্ড সিরিজে ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সের দিকে তাই এবার বাড়তি নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে ফলাফল যাই হোক, সারা টেলরের এই নিয়োগ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে মৃত্যুপুরী উত্তরপ্রদেশ, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৯৬: Sarah Taylor: ইংল্যান্ড পুরুষ দলের ইতিহাসে প্রথম মহিলা কোচ, নতুন ভূমিকায় সারা টেলর
