উত্তর কলকাতার অলিতে গলিতে এখন বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বর (world cup trophy)। প্রিয় দলের পতাকায় পাড়া সাজানোর ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতায় কলকাতার ফুটবল প্রেম উঁকি দিয়ে যায়। মেসি রোনাল্ডো নেইমার এমবাপেদের পারফরম্যান্স নিয়ে ঠেকের আড্ডায় এখন চলে চুলচেরা বিশ্লেষন। এবার মোমের জগতেও বিশ্বকাপের ছোঁয়া। আহিরীটোলার তুহিন মুখোপাধ্যায়। পেশায় ফ্যান্সি মোমবাতি বিক্রেতা। নেশায় মোম শিল্পী। পুরানো কলকাতার পাড়ায় শঙ্কর হালদার লেনের পুরানো ডিজাইনের বাড়ির একতলায় তুহিনের স্টুডিও, তুহিনের কারখানা, তুহিনের শো কেস। বিষয় ভিত্তিক, উৎসব কেন্দ্রীয় মোমবাতি তৈরির ওনার নেশা। তাই উৎসবের হাওয়া কলকাতার আকাশে বইতে শুরু করলেই তুহিনের শিল্পী মন মোমের ক্যানভাসে ম্যুরাল গড়তে থাকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে তাই তুহিন মুখোপাধ্যায় বানিয়ে ফেলেছেন একটি বিশ্বকাপ। ফুট খানেকের মোমের বিশ্বকাপ আহিরীটোলায় তাঁর স্টুডিওয় নজর টানতে বাধ্য।
চল্লিশ বছর আগে মোম শিল্পে রঙের ছোঁয়া লাগিয়েছিলেন তুহিনের বাবা দীপক কুমার মুখোপাধ্যায়। মোমবাতি সাদার বদলেও যে রঙিন হতে পারে তা দেখিয়েছিলেন দীপকবাবু। মোমবাতি শুধু সাদা স্টিক নয় স্টাইলিশ। যার মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে নতুন স্থাপত্যের ছোঁয়া (world cup trophy)।
শঙ্কর হালদার লেনের এই স্টুডিওতে প্রবেশ করলে আপনার মনে হতেই পারে কোনও ওয়াক্স মিউজিয়াম বা মোমের স্টুডিওতে চলে এসেছেন। বাঙালির দূর্গা থেকে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের ম্যুরাল বা বটগাছ কিংবা রজনীগন্ধা ফুল কিংবা বাংলার মিষ্টির প্লেট। যেখানে লাড্ডু থেকে সিঙারা সন্দেশ রসগোল্লা রয়েছে। রয়েছে টেডি বিয়ারও। এদের ভিড়ে চোখ টানে আইসিসি বিশ্বকাপ ট্রফি এবং ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি।
তুহিন মুখোপাধ্যায় বলেন, “যখন কোনও ইভেন্ট আসে তখন আমি তা মাথায় রেখে মোম দিয়ে কোনও স্কাল্পচার বানাই। বাবার কাছেই শেখা সবকিছু। বাবাই রঙিন মোমবাতির পথপ্রদর্শক। কোনও ছাঁচে ফেলে অতি সহজেই করা হয় না। মোমের সঙ্গে বিদেশের বিশেষ ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে জমাট ভাব নিয়ে আসা হয়। তারপর কেটে কেটে করা হয়। মোমের গলন সহজে হয়। আগুনের ব্যবহারও খুব পরিমিত ভাবে করা হয়। এভাবেই যা কিছু দেখছেন তা করা হয়েছে।”
বিশ্বকাপ শুরু হতেই ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফির একটি রেপ্লিকা বানানোর অনুরোধ বন্ধুদের তরফে এসেছিল। তখন থেকেই পরিকল্পনার শুরু। তুহিন মুখোপাধ্যায় বলেন,“ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় ট্রফি বানিয়েছিলাম। এবারও এই মোম দিয়ে ট্রফি তৈরি আড়াইদিন লেগেছে। আপাতত চারটে তৈরি করেছি।”
একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন,“অন্য সকলের মত আমিও বিশ্বকাপ দেখছি। মেসির আর্জেন্টিনার ভক্ত। ফাইনালে আর্জেন্টিনা উঠলে এই কাপ জ্বালিয়ে ম্যাচ দেখব। জিতলে আনন্দ করব। ইচ্ছে আছে মেসির আরেকটি কার্টুন ফর্মের স্ট্যাচু বানানোর। ”
বিশ্বকাপ জ্বরের নানান প্রকাশ কলকাতার অলিতে গলিতে। আহিরীটোলার শঙ্কর হালদার লেনের তুহিন মুখার্জীর মোম দিয়ে বিশ্বকাপ তৈরি ভালোবাসা পরম্পরা এবং শিল্পের ত্রিবেনী সঙ্গম।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্স–স্পেন মহারণ, ইতিহাসের ৫ ম্যাচে লুকিয়ে বড় ইঙ্গিত

