বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু তাঁর অদম্য জেদের কাছে হার মেনেছে বয়সের বাধা। ৪৫ বছরের উর্ধ্বে অ্যাথলেটদের ইভেন্টকে মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স বলা হয়। সেই বিভাগের বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে তাঁর ঝুলিতে ঢুকেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক পদক। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের রীনা ভদ্র (Sonarpur Rina Bhadra)। এ বছর রাজস্থানে অনুষ্ঠিত জাতীয় মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে দশ হাজার মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় এবং পাঁচ হাজার মিটার প্রথম হওয়ার পদক রয়েছে। রীনার ঝুলিতে শুধু জাতীয় স্তরে নয়। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে প্রথম হন রীনা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলে রীনার ঝুলিতে ১০৫ টি পদক রয়েছে। একজন মাস্টার্স অ্যাথলেট হিসাবে এ হেন সাফল্য অবশ্যই নজরকাড়ে।
রীনার সাফ জবাব, যে কোনও সাফল্যের পিছনেই লুকিয়ে রয়েছে মানুষের চেষ্টা ও তাঁর ইচ্ছা শক্তিই বড় কথা। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও মানসিক চাহিদা সাফল্য এনে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে বয়স একটা সংখ্যামাত্র। তাঁর দাবি, সেই তত্ত্বকে সামনে রেখে ৫৯ বছর বয়সেও পরপর সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
বাড়ির মেয়েদের জন্য রীনার পরামর্শ, সংসার ধর্ম সকলকেই সামলাতে হয়। কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য মহিলাদের নিয়মিত শরীর চর্চা করা বিশেষ প্রয়োজন। নিজের উদাররণ দিয়ে তিনি বলেন, সেই চিন্তাধারাকে মাথায় রেখে অ্যাথলেট হিসেবে সাফল্য এসেছে তাঁর।
এত সাফল্যের পরও রীনার গলায় অভিমানের সুর। সমাজ মাধ্যমে থেকে বিভিন্ন সংস্থা তাঁর এই কঠোর অনুশীলন ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দিলেও সরকারে তরফ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। তাঁর দাবি, আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে অ্যাথলেটিক্সের উন্নতির জন্য আরও বেশি করে উদ্যোগ নেওয়া দরকারে সরকারের।
বেশ কয়েক বছর আগে স্বামী প্রয়াত হয়েছেন। দুই কন্যা সন্তানের মা তিনি। তাঁদের কাছ থেকেই বিশেষ উৎসাহ পেয়ে খেলাধুলায় জগৎতে পা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মাস্টার্স অ্যাথলেট রীনা ভদ্র (Sonarpur Rina Bhadra)।

