টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় অঘটনের হাত থেকে ভারতকে বাঁচালেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ওয়াংখেড়েতে আমেরিকার বিরুদ্ধে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও তাঁর অনবদ্য ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংসেই ১৬১ রানে পৌঁছয় টিম ইন্ডিয়া। পরে ২৯ রানে জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ভারত। ম্যাচের পর সূর্য স্পষ্ট করে জানালেন, এই ইনিংসের নেপথ্যে ছিল অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং কোচ গৌতম গম্ভীরের সময়োপযোগী পরামর্শ।
ভারতের ইনিংসে যখন ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছে, তখন ম্যাচ কার্যত আমেরিকার হাতেই চলে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়েই মাঠে নেমে সূর্যর সঙ্গে কথা বলেন গৌতম গম্ভীর। ম্যাচের সেরা হয়ে সূর্য জানান, “গৌতি ভাই আমাকে বলেছিলেন, এই উইকেট ১৮০-১৯০ রানের নয়, ১৪০ রানের উইকেট। তুই যদি শেষ পর্যন্ত থাকিস, রান হয়ে যাবে।” কোচের সেই বিশ্বাসই তাঁকে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
সূর্যর লড়াইয়ে যোগ্য সঙ্গত বোলারদের, আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ভারতের
মুম্বইয়ের উইকেট সূর্যের কাছে হাতের তালুর মতো পরিচিত। আজাদ ময়দান, ক্রস ময়দানে বড় হওয়া সূর্য জানতেন কীভাবে এই পিচে মানিয়ে নিতে হয়। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ওয়াংখেড়েতে এমন ধীর উইকেট আশা করেননি। অতিরিক্ত রোদে পিচ শুকিয়ে যাওয়ায় বল পড়ে থেমে আসছিল। তবুও পরিস্থিতি বুঝে খেলাই তাঁর ইনিংসের মূল চাবিকাঠি ছিল।
দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ভারত অধিনায়ক। সূর্যের কথায়, “পিচের দোষ দিলে চলবে না। আমাদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হত। একজন ব্যাটার যদি আমার সঙ্গে থাকত, আরও রান করা যেত।” জিতেও শিক্ষা নেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
গত বছর দীর্ঘ সময় ফর্মের বাইরে থাকা সূর্যকুমার এই বিশ্বকাপেই নিজের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ফিরে আসার ফল মিলছে বলেই মনে করছেন তিনি। আর সেই ফর্মেই বিশ্বকাপের শুরুতে ভারতকে পথ দেখালেন অধিনায়ক সূর্য।

