Site icon Hindustan News Point

আর্জেন্তিনা ম্যাচে লাল কার্ড বিতর্ক, কী এই FIFA-র ‘Mistaken Identity’ নিয়ম

VAR Mistaken Identity Rule

বিশ্বকাপকে আরও নির্ভুল ও বিতর্কমুক্ত করতে একের পর এক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনছে FIFA। কিন্তু তাতেও রেফারিং বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না। (VAR Mistaken Identity Rule) বরং এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে VAR-এর নতুন ‘Mistaken Identity’ বা ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ প্রোটোকল। আর্জেন্তিনা-সুইৎজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে এই নিয়ম প্রয়োগ করে এক খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ড বাতিল করে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

কী এই ‘Mistaken Identity’ নিয়ম?

VAR সাধারণত গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড এবং ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার মতো ম্যাচ-পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্তেই হস্তক্ষেপ করতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে IFAB ও FIFA এই ‘Mistaken Identity’ নিয়মের পরিধি আরও বাড়িয়েছে।

আগে রেফারি যদি একই দলের দুই ফুটবলারের মধ্যে ভুল করে অন্য কাউকে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতেন, তবেই VAR সেই ভুল শুধরে দিতে পারত। নতুন নিয়মে সেই সীমাবদ্ধতা আর নেই। (VAR Mistaken Identity Rule) এখন রেফারি যদি ভুলবশত প্রতিপক্ষ দলের কোনও ফুটবলারকে কার্ড দেখান, অথচ ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ মেলে যে অপরাধ করেছেন অন্য দলের খেলোয়াড়, তাহলে VAR হস্তক্ষেপ করে ভুল কার্ড বাতিল করে প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ পাবে।

(VAR Mistaken Identity Rule) এই নিয়মের উদ্দেশ্য ফাউল নতুন করে বিচার করা নয়, বরং কার্ডটি সঠিক খেলোয়াড়কে দেখানো হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা।

সুইজারল্যান্ড ম্যাচে হঠাৎ মেজাজ হারালেন মেসি, কী হয়েছিল?

আর্জেন্তিনা ম্যাচে কেন বিতর্ক?

আর্জেন্তিনা-সুইৎজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে রেফারি প্রথমে আর্জেন্তিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে VAR রিভিউতে দেখা যায়, সুইৎজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো ফাউলের শিকার হননি, বরং ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। এরপর পারেদেসের কার্ড বাতিল করে এমবোলোকে সিমুলেশনের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়। সেটিই ছিল তাঁর দ্বিতীয় হলুদ, ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস তারকাকে। বিশ্বকাপে এই প্রোটোকলের মাধ্যমে দ্বিতীয় হলুদ থেকে লাল কার্ড হওয়ার এটিই প্রথম নজির।

প্রথম প্রয়োগ হয়েছিল আমেরিকা-প্যারাগুয়ে ম্যাচে

(VAR Mistaken Identity Rule) এই নিয়মের প্রথম ব্যবহার দেখা যায় গ্রুপ পর্বে আমেরিকা-প্যারাগুয়ে ম্যাচে। রেফারি প্রথমে আমেরিকার ডিফেন্ডার টিম রিমকে হলুদ কার্ড দেন। পরে VAR-এর সহায়তায় স্পষ্ট হয়, আসলে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ডাইভিং করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে বুকিং দেওয়া হয়।

কেন এই (VAR Mistaken Identity Rule) নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ?

FIFA-র দাবি, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য মাঠে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ডাইভিং বা রেফারির তাৎক্ষণিক ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব কমানো। পাশাপাশি দ্বিতীয় হলুদ থেকে লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ভুল থাকলে VAR এখন সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে।

নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, VAR এখানে ফাউল হয়েছে কি না, সেটি নতুন করে বিচার করতে নামে না। মূল লক্ষ্য থাকে কার্ডটি সঠিক ফুটবলারের বিরুদ্ধে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ রেফারি যদি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিয়ে থাকেন, তবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়। FIFA-র দাবি, এতে মাঠে ন্যায়বিচার আরও নিশ্চিত হবে এবং ডাইভিং বা প্রতিপক্ষকে ভুলভাবে শাস্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রবণতাও কমবে। তবে অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, বাস্তবে এই নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘Mistaken Identity’ ও ‘Decision Error’-এর সীমারেখা সবসময় স্পষ্ট নাও হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এই প্রোটোকল ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে সমালোচকদের একাংশের মতে, এই নিয়মে ‘Mistaken Identity’-র প্রচলিত সংজ্ঞা অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে VAR-এর হস্তক্ষেপ আরও বাড়তে পারে এবং ম্যাচের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও FIFA মনে করছে, সঠিক খেলোয়াড়কে শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বিশ্বকাপের রেফারিংকে আরও নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

বিশ্বকাপের মাঝে শুরু কলকাতা লিগ, কোথায় দেখবেন?


Exit mobile version