Site icon Hindustan News Point

Varun Chakravarthy: ট্রফি জিতে তীর্থযাত্রা, তিরুভান্নামালাইয়ে ১৪ কিমি পদযাত্রায় বরুণ-ওয়াশিংটনের

Varun Chakravarthy

কথায় আছে মানুষের নিজের শিকড়কে ভোলা উচিত নয়। উচ্চতার শিখরে পৌঁছলেও ফিরে আসতে হয় নিজের শিকড়ে। ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় এনেছে ভারত। আর ঠিক তার পরেই নিজের শিকড়ের কাছে ফিরলেন দুই ভারতীয় স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়াশিংটন সুন্দর। (Varun Chakravarthy)

ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মুকুট জয় করেছে। সেই সাফল্যের কৃতজ্ঞতা জানাতেই দুই ক্রিকেটার পৌঁছে যান তামিলনাড়ুর পবিত্র শহর তিরুভান্নামালাইতে। সেখানেই তাঁরা পালন করেন দক্ষিণ ভারতের এক প্রাচীন ধর্মীয় আচার ‘গিরিভালাম’।

অরুণাচল পাহাড়কে ঘিরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রা তামিল সংস্কৃতিতে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রদক্ষিণ কেবল তপস্যা নয়। জীবনের বড় সাফল্যের জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো।

আরুলমিগু আন্নামালাইয়ার মন্দিরে প্রার্থনা সেরে সন্ধ্যার পর খালি পায়ে হাঁটা শুরু করেন দুই ক্রিকেটার। রোদের তাপ আর ভিড় এড়াতে তাঁরা বেছে নেন রাতের নীরবতা। তবে বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটারদের উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত গোপন রাখা যায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভক্তরা তাঁদের চিনে ফেলেন। পথের ধারে জমে ওঠে যেন উৎসব। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ আবার বিশ্বকাপ নায়কদের একঝলক দেখেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত।

ভারতের এই বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়াশিংটন সুন্দর, দু’জনের অবদানই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রহস্যময় স্পিনে পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়ে বরুণ তুলে নেন ১৪টি উইকেট। হয়ে ওঠেন অন্যতম সফল বোলার। অন্যদিকে সুন্দর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের পাশে দাঁড়ান।

গত কয়েক বছরে ইনজুরি আর জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়ার মতো কঠিন সময়ও পার করতে হয়েছে এই দুই ক্রিকেটারকে। তাই তিরুভান্নামালাইয়ের এই তীর্থযাত্রা যেন কেবল শুধু ধর্মীয় আচার নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসে সাফল্যের পথে নিজেদের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক নিঃশব্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এদিকে বিশ্বকাপ জয়ের পথচলায় দলের ভেতরের একটি মানবিক মুহূর্তের কথাও সামনে এনেছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের একটি ম্যাচে অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি পরে সতীর্থের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

সূর্যকুমার জানান, এই সিদ্ধান্তে অক্ষর হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। ড্রেসিংরুমেই তিনি তার সঙ্গে কথা বলেন। অধিনায়কের কথায়, সে খুব রেগে গিয়েছিল, আর সেটাই স্বাভাবিক। সে একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, তার অনুভূতিটা বোঝা যায়।

তবে সাময়িক মনোমালিন্যের মাঝেও দলের প্রতি অক্ষরের সমর্থন কমেনি। সুযোগ পেলেই তিনি অবদান রেখেছেন দলের সাফল্যে।

শেষ পর্যন্ত সেই ঐক্য আর বিশ্বাসের জোরেই ভারত আবারও জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা।


Exit mobile version