আইপিএল ২০২৬ মরসুমের মাঝেই ফের শিরোনামে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) । তবে এবার ব্যাট হাতে নয়, নিজের মানসিকতা, নেতৃত্ব এবং সাফল্যের দর্শন নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখলেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা। বেঙ্গালুরুর তৃতীয় আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিট-এ ‘মাইন্ড ওভার এভরিথিং: বিরাট কোহলি অন পিক পারফরম্যান্স’ শীর্ষক আলোচনায় নিজের দীর্ঘ ক্রিকেট-যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।
প্রায় দু’দশকের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে অসংখ্য চাপের ম্যাচ খেলেছেন কোহলি (Virat Kohli) । রান তাড়া করার ক্ষেত্রে কেন তিনি এত সফল। সেই প্রশ্নের উত্তরে বিরাট বলেন, দায়িত্ব যত বেশি আসে, তিনি তত বেশি নিজেকে উজাড় করে দিতে পারেন। তাঁর কথায়, “আমি এমনভাবেই তৈরি, যেখানে আরও দায়িত্ব, আরও চাপ আমাকে সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করে।”
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলের জন্য খেলার মানসিকতাকেও নিজের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। কোহলির মতে, যখন একজন ক্রিকেটার নিজের কথা ভুলে বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রাখে, তখন তার পারফরম্যান্সও অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। (Virat Kohli) তিনি স্পষ্ট বলেন, “যদি আমি বড় কোনও উদ্দেশ্যের জন্য খেলি, তাহলে নিজের ধারণার থেকেও বেশি ভালো পারফর্ম করতে পারি।”
আলোচনায় উঠে আসে ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর-এর প্রসঙ্গও। কঠিন সময়ের মধ্যে কীভাবে তাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোহলি (Virat Kohli) । তিনি জানান, সেই সময় মানসিকভাবে তাঁকে বোঝা এবং সমর্থন দেওয়ার কারণেই আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে পেরেছিলেন।
ফিটনেস নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তাঁর মতে, কঠোর ডায়েট বা জীবনযাত্রা কোনও ‘ত্যাগ’ নয়, বরং নিজেকে আরও উন্নত করার প্রক্রিয়া। কোহলির বক্তব্য, দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া নিজেই বিরাট সম্মানের বিষয়। তাই এটাকে অতিরিক্ত কিছু হিসেবে না দেখে দায়িত্ব হিসেবেই দেখা উচিত। তাঁর মতে, এটাই ভবিষ্যতের স্পোর্টস কালচার তৈরি করতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে শুধু রেকর্ড বা পরিসংখ্যান নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রভাব বলে মনে করেন বিরাট। (Virat Kohli) তিনি বলেন, “আমার যাত্রা, শৃঙ্খলা বা চাপের মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া দেখে যদি কেউ নিজের জীবনে অনুপ্রাণিত হয়, সেটাই সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক।”
এই স্পোর্টস সামিটে আইপিএল ও ডব্লিউপিএলের বাণিজ্যিক বৃদ্ধি, ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন, ক্রীড়া অবকাঠামো এবং ফ্যান এক্সপেরিয়েন্স নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন আরসিবি সিইও রাজেশ মেনন, ক্রিকেট ডিরেক্টর মো ববাট,ভারত সরকারের ক্রীড়া বিভাগের সচিব হরি রঞ্জন রাও (আইএএস), বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং (আইপিএস), বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের পশ্চিম বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ভামসি কৃষ্ণ,আদিত্য বিড়লা গ্রুপের গ্রুপ কর্পোরেট ফাইন্যান্সের প্রধান সন্দীপ আগরওয়াল-সহ একাধিক প্রশাসনিক ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। ভারতীয় ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ এবং চ্যাম্পিয়ন দল তৈরির রূপরেখাও উঠে আসে আলোচনায়।
চাপ, দায়িত্ব এবং শৃঙ্খলা — এই তিন মন্ত্রেই এখনও নিজেকে চালিত করেন বিরাট কোহলি। আর সেই কারণেই, ৩৭ বছর বয়সেও তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণাগুলির মধ্যে অন্যতম।
Nisith Pramanik: পদক জিতলেই আর্থিক পুরস্কার ও সরকারি চাকরি, বাংলার ক্রীড়াবিদদের আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর: “নিজেকে নয়, বড় লক্ষ্যই আমাকে সেরাটা দিতে শেখায়”— আইপিএল ২০২৬-এ ‘বিরাট’ বার্তা
